অনেক বছর ধরে স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে রাজ্যে। কখনও দুর্নীতির অভিযোগ, কখনও আদালতের রায়, কখনও চাকরি হারানো প্রার্থীদের বিক্ষোভ—বিভিন্ন অধ্যায়ের সাক্ষী থেকেছে গোটা বাংলা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে শুরু হয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। আর সেই পথেই যেন সবুজ সংকেত দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবারের সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে তৈরি হল এক নতুন মোড়।
২০২৫ সালের রুল অনুসারে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)-এর তরফে নতুন যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, তা আগেই মান্যতা পেয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট থেকে। বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ সেই বিজ্ঞপ্তিকে বৈধ বলে রায় দিয়েছিলেন। এর পরেই কিছু চাকরি প্রার্থী সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান।
নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৬-র বাতিল হওয়া প্যানেল থেকে চিহ্নিত অযোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হলেও, বাকি চাকরিহারাদের বয়সে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন প্রার্থীদের অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে SSC। এখানেই আপত্তি তোলেন কিছু ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থী। তাঁদের দাবি ছিল, এই নিয়মে তাঁরা বঞ্চিত হবেন।
তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ সোমবার জানিয়ে দেন, তাঁরা এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার বলেন, “টেইনটেডরা বাদ পড়েছেন, যোগ্যরা যদি বাড়তি সুযোগ পান, তাতে দোষ কোথায়? তাঁদের পড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।” অর্থাৎ যোগ্যদের প্রতি বিচারব্যবস্থার পক্ষপাত দেখা গেল শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে।
আরও পড়ুনঃ August Grah Gochar 2025: অগাস্টে পরির্বতন হতে চলেছে একাধিক গ্রহের স্থান, ভাগ্য বদলাবে এই রাশির জাতকদের! কারা পাবেন টাকা ও সাফল্য?
ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীদেরও বয়সে ছাড়ের আওতায় আনার আবেদন করেন আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ফলে পরিষ্কার হয়ে যায়, SSC যে নিয়ম তৈরি করেছে, তা আইনি বাধাহীন। নতুন নিয়োগে আর কোনও আইনি জটিলতা নেই। স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন পথ প্রশস্ত। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কবে থেকে শুরু হয় নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ।





