গত কয়েকদিনে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে হঠাৎ করেই ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম জমা পড়ার সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। এমন চিত্র সাধারণত দেখা যায় না। সাধারণত যেখানে এই ধরনের আবেদনের সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে থাকে, সেখানে এবার তা ছাড়িয়েছে ৭০ হাজার। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘিরেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি চিঠি দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসন বেআইনিভাবে রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট প্রদান করছে, যার মাধ্যমে তারা ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ পাচ্ছে। এই প্রক্রিয়া আইনবিরুদ্ধ বলেও তিনি দাবি করেছেন। শুভেন্দুর অনুরোধ, ২৫ জুলাইয়ের পর থেকে দেওয়া যেকোনো ডোমিসাইল সার্টিফিকেট যাতে SIR (Special Summary Revision)-এ গ্রাহ্য না হয়।
যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “সারা দেশে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে বিজেপি। বাংলাতেও SIR আর নির্বাচন কমিশনের নাম করে মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে।”
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, অগাস্টের প্রথম সপ্তাহেই বাংলায় শুরু হতে পারে SIR। সূত্র বলছে, রাজ্যে এই সংক্রান্ত সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়ে গিয়েছে। গত এক সপ্তাহে শুধু অনলাইনেই ৭০ হাজারের বেশি মানুষ ভোটার কার্ড সংশোধন বা নতুন করে নাম তোলার আবেদন করেছেন। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী জেলাগুলির হার সবচেয়ে বেশি। শুধু নতুন ভোটার নয়, অনেকেই নাম বা ঠিকানা পরিবর্তনের জন্যও আবেদন করেছেন।
আরও পড়ুনঃ East India Company Ownership: যে কোম্পানি একসময় ভারতকে লুটেছিল, আজ তার মালিক এক ভারতীয়! কীভাবে সম্ভব হল এই অবিশ্বাস্য পালাবদল?
SIR-এর সম্ভাবনা তৈরি হতেই সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হুঁশিয়ারি, “বাংলায় একটা ভোটারও বাদ পড়লে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হবে। ঘেরাও হবে, মিছিল হবে, স্লোগান উঠবে।” বাংলার রাজনীতিতে ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। SIR শুরু হলে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেদিকেই নজর থাকছে রাজ্যবাসীর।





