সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলাচ্ছে প্রতারণার ধরন। এক সময় যেখানে ফোন কল বা ইমেলের মাধ্যমে প্রতারণা হত, এখন তা আরও ‘ব্যক্তিগত’। একাকীত্ব দূর করতে অনেকেই আজকাল ম্যাট্রিমোনি বা বিয়ের ওয়েবসাইটে সঙ্গী খোঁজেন। কিন্তু এই ডিজিটাল যুগে ‘জীবনসঙ্গী খোঁজা’র আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ংকর ফাঁদ। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে, যা হতচকিত করেছে পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকদেরও।
জানা গিয়েছে, নিউ ব্যারাকপুরের লেনিনগড় এলাকার বাসিন্দা সুদীপ বসুর সঙ্গে সম্প্রতি আলাপ হয় জিয়া সিংহ নামের এক তরুণীর। আলাপের মাধ্যম ছিল একটি নামী বিয়ের ওয়েবসাইট। কথোপকথনের মাধ্যমে তৈরি হয় ঘনিষ্ঠতা। এরপরই দু’জন দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। ঠিক হয়, জুলাই মাসের শুরুতে তাঁরা একসঙ্গে সময় কাটাবেন একটি হোটেল ঘরে। সেই পরিকল্পনা মতোই ১ জুলাই কলকাতার একটি হোটেলে দেখা হয় তাঁদের।
অভিযোগ, হোটেলের ঘরে দেখা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জিয়া সুদীপকে চা খাওয়ান। সেই চা পান করার পরই সুদীপ অচেতন হয়ে পড়েন বলে দাবি। জ্ঞান ফেরার পরে তিনি দেখতে পান, তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, পকেটের টাকাপয়সা সব কিছুই উধাও। হোটেল কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিয়ে কোনও রকমে বাড়ি ফেরেন তিনি। তবে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নিয়ে থানায় না গিয়ে বেশ কিছু দিন চুপ থাকেন।
শেষ পর্যন্ত রবিবার তিনি এয়ারপোর্ট থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৩, ৩০৩(২), ৩১৬(২) এবং ৩১৮(৪) ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। ওই দিনই জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাঁকে আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : “বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার বানানো হচ্ছে!”— নির্বাচন কমিশনারকে শুভেন্দুর চিঠি!
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এটা কি শুধুমাত্র একটি নিছক প্রতারণার ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র—তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। জিয়া সিংহ নামের ওই তরুণী এর আগেও একই কায়দায় অন্যদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বিয়ের ওয়েবসাইটে থাকা তাঁর প্রোফাইল নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অনলাইন সম্পর্ক গড়ে ওঠার আগে সাবধানতা যে কতটা জরুরি, এই ঘটনা ফের একবার তার প্রমাণ রাখল।





