রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হতে না হতেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। বুথ লেভেল অফিসার বা BLO-দের ঘিরে রাজনীতি যেন এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুদায়িত্ব পালন করতে চলা এই সরকারি কর্মীদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আর সেই মন্তব্যের জবাব দিতে এখন গর্জে উঠেছেন BLO-রা। তাঁদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ‘ঠান্ডা হুমকি’র সামিল।
রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরুর আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দেন BLO-দের। তিনি বলেন, “আপনারা রাজ্য সরকারের কর্মী। ভোটার লিস্টে যেন কারও নাম বাদ না যায়, এটা নিশ্চিত করুন।” যদিও তিনি এটিকে অনুরোধ বলেই তুলে ধরেন, কিন্তু BLO-দের একাংশ বলছেন, এটি আসলে চাপের বার্তা। তাঁদের মতে, এই মন্তব্যে পরোক্ষ হুমকি এবং রাজনৈতিক চাপে প্রভাবিত করার চেষ্টা রয়েছে।
BLO বা বুথ লেভেল অফিসার হলেন সেই সরকারি কর্মীরা যাঁদের ওপর ভোটার তালিকার সংশোধনের দায়িত্ব থাকে। প্রতি বুথে একজন BLO থাকেন এবং তাঁদের কাজ হল বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটারদের তথ্য যাচাই করা। কার নাম তালিকায় থাকবে আর কার নাম বাদ যাবে, তার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত আসে BLO-দের পর্যবেক্ষণ থেকেই। তবে এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছেন তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পরেই পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন একাধিক BLO। শিক্ষিকা অনিতা সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি যদি দেখি কেউ ওই ঠিকানায় থাকে না, কিংবা তিনি অন্য দেশের নাগরিক, তাহলে তো আমায় বাদ দিতেই হবে। এটা ঠান্ডা হুমকি ছাড়া কিছু নয়।” একইভাবে চিরঞ্জিত ধীবর বলেন, “মৃত কিংবা ভুয়ো ভোটার থাকলে সেই নাম তালিকা থেকে বাদ দেব না, এটা কেমন কথা? আমরা শিরদাঁড়া বিক্রি করব না।”
আরও পড়ুনঃ Kolkata metro : শহরে মেট্রো পরিষেবায় নতুন বিপ্লব! রবিবার বন্ধ থাকছে কলকাতার মেট্রো পরিষেবা!
শিক্ষক শিক্ষাকর্মী BLO ডিউটি প্রতিরোধ মঞ্চের আহ্বায়ক অনিমেষ হালদার জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে BLO-রা দায়িত্ব নেবেন না। BLO প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনেই কাজ করব। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে রাজনৈতিক প্ররোচনার গন্ধ রয়েছে।” ভোটার তালিকা সংশোধনের মত সংবেদনশীল কাজে রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিরোধে BLO-রা সুরক্ষা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জোর দাবি তুলেছেন।





