সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এক অদৃশ্য টানাপোড়েন ফের সামনে এসেছে। অতীতে যাঁকে ‘বন্ধু ট্রাম্প’ বলে সম্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, আজ সেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের দিকেই কি তোপ দাগলেন তিনি? প্রকাশ্যে কোনও দেশের নাম না করেও এক আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে মোদির দেওয়া এক বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে আমেরিকার তরফে ভারতের উপর চাপানো অতিরিক্ত শুল্কের ক্ষোভ।
দিল্লিতে আয়োজিত MS Swaminathan Centenary International Conference-এ ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে কোনওদিন আপস করবে না ভারত। আমি জানি, ব্যক্তিগত ভাবে এর জন্য আমাকে বড় মূল্য চোকাতে হবে। কিন্তু আমি প্রস্তুত।” কোনও দেশের নাম উল্লেখ না করলেও মোদির এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে একাধিক ব্যাখ্যা। কারণ এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক চাপ এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিক থেকেই।
রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করার কারণে আমেরিকা একের পর এক শুল্ক চাপাচ্ছে ভারতের উপর। প্রথমে ২৫ শতাংশ, তারপর আরও ২৫ শতাংশ, মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে ভারতীয় পণ্যের উপর। এই শুল্কের কোপে পড়েছে ভারতের কৃষিপণ্য রপ্তানি, যা সরাসরি দেশের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এতেই অনেকে বলছেন, মোদির ‘মূল্য চোকাতে প্রস্তুত’ মন্তব্য আসলে সেই মার্কিন শুল্ক নীতির বিরুদ্ধেই ঘুরিয়ে প্রতিক্রিয়া।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, ভারত আমেরিকান পণ্যের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করে আসছে দীর্ঘদিন। ফলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারতীয় পণ্যের উপরেও চাপানো হচ্ছে শুল্ক। বিশেষ করে কৃষিপণ্য এবং জ্বালানি তেলকে ঘিরে এই টানাপোড়েন প্রকট হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ভারতের কৃষক, মৎস্যজীবী, পশুপালকদের বড় আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতীয় অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
আরও পড়ুনঃ Geopolitical Tension: ট্রাম্পের শুল্ক চাপের জবাব চুক্তির মাধ্যমে! রাশিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমেরিকাকে জবাব দিল ভারত!
এই পরিস্থিতির জন্য মোদি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন অনেকে। কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, “যদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকত, তাহলে এতটা কঠোর শুল্ক নীতির সম্মুখীন হতো না ভারত।” কেউ কেউ আমেরিকার বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের পক্ষে সওয়াল করছেন। তবে ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রশ্ন উঠছে—মোদির ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের সঙ্গে কি তবে সম্পর্কের ইতি ঘটল?






