রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে বদলে যাচ্ছে বিশ্বের শক্তি সম্পর্কের মানচিত্র। ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে তৈরি হচ্ছে কূটনৈতিক টানাপড়েন, বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ঘিরে। তবে এই সমস্ত চাপের মধ্যেও ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল—রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কোনওভাবেই নষ্ট হবে না। সেই ইঙ্গিতই মিলল ৬ অগস্ট ভারতের ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন মডার্নাইজেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল কো-অপারেশন’-এর বৈঠকে।
সোমবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ছিল ভারত-রাশিয়া আধুনিকীকরণ ও শিল্প সহযোগিতা বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের ১১তম অধিবেশন। সেখানেই অ্যালুমিনিয়াম, সার, রেলপথ এবং খনির প্রযুক্তিতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একটি প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, রেয়ার আর্থ খনিজ পদার্থ নিয়েও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়েছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
এই চুক্তির মাত্র কয়েক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতীয় পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। কার্যকর হবে তিন সপ্তাহ পর থেকে। যুক্তি—রাশিয়া থেকে ভারত তেল কিনছে। অথচ এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে আমেরিকাই এক সময় চেয়েছিল ভারত যেন রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে। সেই পুরনো অবস্থান থেকে এখন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে ভারতকে নিশানা করছেন ট্রাম্প।
এই সিদ্ধান্তের পরপরই ৪ অগস্ট কড়া প্রতিক্রিয়া দেয় ভারত। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, আমেরিকা নিজেরা কিন্তু রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম-সহ একাধিক খনিজ পদার্থ কিনে চলেছে। সেই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করেই ভারতকে একতরফা ভাবে নিশানা করা হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় জানায়, “ভারতকে ভিত্তিহীনভাবে দায়ী করা অনুচিত।” এই প্রতিক্রিয়া ছিল আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের এক সাহসী অবস্থান।
আরও পড়ুনঃ RG KAR case : ‘ন্যায় না পেলে সবার সামনে মরে যাব’ — আরজি কর কাণ্ডে দিল্লির রাস্তায় অভয়ার মা-বাবা, শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ ব্যর্থ!
৫ অগস্ট, এই পরিস্থিতিতে এক ভারতীয় সাংবাদিক হোয়াইট হাউস প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন—“আমেরিকা যখন রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আমদানি করছে, তখন ভারত তেল কিনলেই কেন এত আপত্তি?” প্রশ্ন শুনে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যান ট্রাম্প। সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “আমি এই বিষয়ে বিস্তারিত জানি না, পরে বলব।” তাঁর এই প্রতিক্রিয়া ঘিরে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান ধরে রাখাই যে ভারতের লক্ষ্য, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল এই সমস্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!