স্বাধীনতা দিবসের মরশুমে লালকেল্লার মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশের ভবিষ্যৎ এবং স্বয়ংসম্পূর্ণতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাতীয় মনোবল বাড়ানো এবং আত্মনির্ভর ভারতের কল্পনা সামনে আনার পাশাপাশি মোদি নাম না করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফ বার্তা দিয়েছেন, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রেক্ষিতে। বক্তৃতায় মোদি কৃষক, মৎস্যজীবী এবং পশুপালকদের স্বার্থের প্রতিরক্ষা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলবে।
মোদি উল্লেখ করেছেন, ভারত কোন অবস্থাতেই এমন কোনো নীতি গ্রহণ করবে না যা কৃষি, ডেয়ারি বা মৎস্য খাতের ক্ষতি করবে। সম্প্রতি মার্কিন শুল্ক প্রয়োগ এবং কর্পোরেট চাপে ভারতকে বাজার উন্মুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে, তবে দেশ তা মানতে নারাজ। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থানই আটকে রেখেছে ভারত-আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য চুক্তি। ব্রিটেনের সঙ্গে চুক্তিতেও একই কারণে ভারত তিনটি খাতের বাজার উন্মুক্ত করেনি। মোদির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ আন্তর্জাতিক চাপে বিক্রি হবে না।
শুল্কযুদ্ধের আবহে মোদি আত্মনির্ভরতার জয়গান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোই দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার মূল। কৃষি, খাদ্য, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা—প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারতকে আত্মনির্ভর করে তোলা হবে। পাকিস্তানকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের শক্তি প্রদর্শনের উদাহরণ দিয়ে মোদি আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন।
যদিও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের প্রতি কিছুটা নরম সুর রয়েছে, মোদি লালকেল্লা থেকে সতর্ক করে দিয়েছেন, শক্তিসম্পদে স্বাধীনতা অপরিহার্য। সৌরবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, পরমাণু শক্তি এবং সমুদ্রগর্ভে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ভারতের পদক্ষেপ উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়, তবে কৃষি বাজারের ক্ষেত্রে কোন আপস হবে না।
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : GST-তে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, দীপাবলির আগে সাধারণ মানুষ পাবেন বিশেষ উপহার! নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি!
শেষে মোদি বললেন, দেশের কৃষক, মৎস্যজীবী ও পশুপালকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কোন আন্তর্জাতিক চাপ ভারতকে আত্মনির্ভরতার পথে বাধা দিতে পারবে না। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে মোদি প্রদর্শন করেছেন শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার রাজনৈতিক সংকল্প। দেশের অগ্রগতির সঙ্গে সাথে, এই বার্তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।






