দলীয় অন্দরে আচমকা অস্বস্তি। উত্তর ২৪ পরগনার দমদম মহল্লায় ছাত্র রাজনীতির মাঠে নামতে গিয়ে এক তরুণী বাম কর্মীর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা সামনে আসতেই নতুন প্রশ্ন উঠছে আন্দোলনের ভাষা কি সংগঠনের ভেতরেই ব্যর্থ হচ্ছে?
অভিযোগকারিণী যুবতীর দাবি, পড়াশোনার সূত্রে দমদমে থাকতেই তিনি SFI-র জেলার সঙ্গে যুক্ত হন। আলাপ বাড়তেই একজন রাজ্য কমিটির সদস্য নাকি বারবার অনভিপ্রেত মেসেজ পাঠাতে শুরু করেন। ফাঁকা ফ্ল্যাটে দেখা করার প্রস্তাবও আসে এই অভিযোগই তুলেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, আঞ্চলিক কমিটির এক সদস্যকে ফাঁসাতে তাঁকে দিয়ে ‘ভুয়ো শ্লীলতাহানির’ অভিযোগ সাজানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও তাঁর বক্তব্য। এইসব কারণেই তিনি সংগঠন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং লিখিত অভিযোগে কড়া ভাষায় লেখেন—সংগঠনের ভেতরে থাকা এইসব ‘পোটেনশিয়াল রেপিস্ট’ মহিলা কমরেডদের জন্য ‘থ্রেট’।
চিঠিতে আরও উল্লেখ, বাইরে রাস্তায় ‘থ্রেট কালচার’ বিরোধী স্লোগান উঠলেও ভিতরে এমন আচরণ চলতে পারে না। জেলা স্তরের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার ‘দাদাগিরি’র কথাও তিনি তুলেছেন। ঘটনাগুলি ধারাবাহিক ভাবে নেতৃত্বকে জানিয়ে ‘যোগ্য পদক্ষেপ’-এর আবেদন করেছেন ওই তরুণী। ঠিক কোন কোন সময়ে, কোথায় কী ঘটেছে—তা নাকি তিনি বিস্তারিত জানিয়ে দিয়েছেন, এমনটাই তাঁর দাবি।
SFI রাজ্য নেতৃত্ব বলছে, অভিযোগ ওঠার দিন থেকেই সাংগঠনিক তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে জানান, “অভিযোগকারিণীর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। যে দিন অভিযোগ করা হয়েছিল, সেদিন থেকেই সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।” প্রভাবশালী পদে থাকা কারও নাম জড়ালেই যাতে তদন্তে দীর্ঘসূত্রীতা না আসে, সে বিষয়ে সংগঠন সতর্ক—এ কথাও জানানো হয়েছে। ফলে আপাতত সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
আরও পড়ুনঃ সংবেদনশীলতার অভাব! জয় ব্যানার্জীর মৃত্যুর পর ‘আর্থিক কষ্টে’র মন্তব্য ঘিরে চিরঞ্জিতকে কাঠগড়ায় তুললেন প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী পাল! তাপসের সময়ও নাকি একই কথা বলেছিলেন বিধায়ক-অভিনেতা!
প্রসঙ্গত, চলতি বছরেই সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে এক মহিলা সাংবাদিককে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল। দলের অভ্যন্তরীণ কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখে; তদন্ত চলাকালীন তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়, পরে সেটি প্রত্যাহারও হয়। সেই পটভূমিকায় ছাত্র সংগঠনের এক নেতাকে ঘিরে নতুন অভিযোগ ওঠায় বাম শিবিরে ফের অস্বস্তির গুঞ্জন। তবে বর্তমান ঘটনায় SFI স্পষ্ট করেছে—তদন্তের আগে কোনও ব্যক্তিকে দোষী বা নির্দোষ বলা হবে না; লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগোবে, তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।





