কলকাতায় এক দিনের মধ্যেই দুই আলাদা ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে একই আইনের নজির কি সবার জন্য এক? মঙ্গলবার শহরের রাস্তায় প্রথমে ঘটে এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা, আর সকালে মেয়ো রোডে ধরা পড়ে সিগন্যাল ভাঙা। দু’দিকেই পুলিশের উপস্থিতি, দু’দিকেই মামলা রুজু—তবু মামলা দায়েরের সময়ের ফারাকে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
মঙ্গলবার ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার কনভয়ের একটি গাড়ির ধাক্কায় এক বাইক আরোহীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুলিশের ওই গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে—অভিযোগ বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো ও সম্পত্তি নষ্ট। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কনভয়ের যে গাড়িটি জড়িত, তার রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ আগেই উত্তীর্ণ। তাই প্রশ্ন উঠছে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি কনভয়ে কেন, কেমন করে? পুলিশ জানাচ্ছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, নিয়ম ভাঙা ধরা পড়লে ব্যবস্থা হবে।
এর কিছু পরই মেয়ো রোডে থামানো হয় সেনার একটি ট্রাক। অভিযোগ ওঠে সিগন্যাল না মেনে ডানদিকে ঘোরা। হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ডের এক ট্র্যাফিক সার্জেন্টের অভিযোগের ভিত্তিতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির নতুন ধারায় ২৮১ BNS অনুযায়ী মামলা রুজু হয় প্রায় ৪ ঘণ্টার মধ্যেই। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, সেনার ট্রাকের পিছনের একটি লাল গাড়িও একইভাবে সিগন্যাল অমান্য করে ডানদিকে ঘুরেছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, তাহলে কেবল সেনার গাড়ির বিরুদ্ধেই তৎপরতা কেন? তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি মেয়ো রোডের ‘মঞ্চ খোলা’ প্রসঙ্গ না থাকলে এত দ্রুততা কি দেখা যেত?
বিতর্কের কেন্দ্র এখানেই সেনার ট্রাকের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টায় মামলা, আর পুলিশের কনভয়ের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় এফআইআর করতে লাগে প্রায় ২৪ ঘণ্টা। পুলিশের ব্যাখ্যা, মঙ্গলবার রাতেই থানায় অভিযোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু চালকও আহত থাকায় সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার করা যায়নি। ডিসি ট্রাফিক ইয়েলওয়াদ শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও জানান, “সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হচ্ছে, স্থানীয় থানা তদন্ত করছে, তথ্য বেরোবে।” অর্থাৎ, তদন্তের অগ্রগতিই ঠিক করবে পরের পদক্ষেপ।
আরও পড়ুনঃ Affair Case : শ্বশুর-শাশুড়ির চায়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পালালেন প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে একই দুই বউ !
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন ১৬ বছরের পুরনো, মোটর ভেহিকলস দফতরে ‘বাতিল’ হিসেবে চিহ্নিত গাড়িটি কীভাবে কলকাতা পুলিশের পাইলট কার হিসেবে চলছিল? অনুমোদন কে দিল, নজরদারি কোথায় ব্যর্থ হল? অন্যদিকে, সিগন্যাল ভাঙার ঘটনায় যদি একাধিক গাড়ি ‘দোষী’ দেখা যায়, তবে আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ হল কি? আপাতত দুই মামলায়ই সিসিটিভি বিশ্লেষণ, কাগজপত্র যাচাই এবং চিকিৎসাধীন চালকের অবস্থার আপডেটই পরের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে। শহরের নাগরিকদের চাওয়া একটাই—রাজপথে আইন এক, চালক যেই হোক না কেন।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার