নয়ের দশকের বাংলা টেলিভিশনের কথা উঠলেই একাধিক চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে যায় দর্শকের পুরনো দিনের স্মৃতি। তার মধ্যে অন্যতম ‘জন্মভূমি’র পিসিমা। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি, কথা বলার ধরন এবং অভিনয়ের নিজস্ব ভঙ্গি খুব সহজেই জায়গা করে নিয়েছিল দর্শকের মনে। কিন্তু একটা সময়ের পর সেই পরিচিত মুখকে আর নিয়মিত দেখা যায়নি পর্দায়। ধীরে ধীরে গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি। কেন এমন সিদ্ধান্ত? এখনই বা কী করছেন সেই জনপ্রিয় অভিনেত্রী?
আসলে অভিনয় জগতে মিতা চট্টোপাধ্যায়ের পথচলা শুরু হয়েছিল বহু আগেই। তাঁর আসল নাম ছিল নমিতা চট্টোপাধ্যায়। ‘নীল শাড়ি’ ছবিতে নায়িকা হওয়ার সময় একই নামে একাধিক অভিনেত্রী থাকায় তৈরি হয়েছিল বিভ্রান্তি। সেই সময় অভিনেতা অনুপ কুমারের মজার পরামর্শেই তাঁর নাম থেকে বাদ যায় ‘ন’। নমিতা হয়ে যান মিতা। এরপর অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ এবং গানের জগতেও নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন তিনি। কত্থক, কথাকলি, মণিপুরী, ভরতনাট্যমের মতো বিভিন্ন নৃত্যশৈলীতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক প্রতিযোগিতাতেও পুরস্কার পেয়েছেন।
তবে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রয়েছে ‘জন্মভূমি’। মাত্র ছ’দিনের কাজের কথা ভেবেই ধারাবাহিকে তাঁকে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চরিত্রটি দর্শকের এতটাই পছন্দ হয় যে শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত বছর ধরে সেই ধারাবাহিকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বাংলার ঘরে ঘরে ‘পিসিমা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যান মিতা চট্টোপাধ্যায়। অথচ এত জনপ্রিয়তার পরেও একসময় নিজেই অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কেন? অভিনেত্রীর কথায়, তিনি নিজেই সরে এসেছেন, কারণ তাঁর মনে হয়েছে ঈশ্বর তাঁকে যা দিয়েছেন, সেটাই যথেষ্ট।
আরও পড়ুনঃ ‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার
অভিনয় থেকে দূরে সরে গেলেও থেমে থাকেননি মিতা চট্টোপাধ্যায়। বর্তমানে লেখালেখিই তাঁর অন্যতম প্রিয় কাজ। বই লেখা এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখির মধ্যেই নিজের সময় কাটান তিনি। ২০০১ সালে কলকাতার ময়দানের বইমেলায় তাঁর লেখা ছোটদের দুটি বই প্রকাশিত হয়েছিল। সেই বইগুলি এতটাই প্রশংসিত হয়েছিল যে প্রায় ১২৭টি স্কুলে সেগুলি সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে পড়ানো হয়েছে। ক্যামেরার আলো থেকে দূরে থাকলেও নিজের সাহিত্যচর্চার জগতেই শান্তিতে সময় কাটাচ্ছেন ‘জন্মভূমি’র সেই চিরস্মরণীয় পিসিমা।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার