‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার

ধর্ম, ঈশ্বর এবং বিশ্বাস নিয়ে বরাবরই নিজের যুক্তিবাদী অবস্থান স্পষ্ট করে এসেছেন প্রবীণ লেখক-গীতিকার জাভেদ আখতার। এবারও ব্যতিক্রম হল না। এক সাক্ষাৎকারে ধর্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কঠিন সময়ে কোনও বিশ্বাস মানুষকে মানসিক শান্তি দিলেই কি সেটি সত্য প্রমাণিত হয়? তাঁর মতে, বিপদের সময়ে মানুষ অনেক সময় এমন একটি শক্তির উপর নির্ভর করতে চায়, যাকে সে সবসময় পাশে আছে বলে মনে করতে পারে। সেই বিশ্বাস হয়তো মানুষকে সান্ত্বনা দেয়, কিন্তু শুধুমাত্র সান্ত্বনা পাওয়াকে কোনও বিশ্বাসের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ফের চর্চায় এসেছে জাভেদের ঈশ্বর ও ধর্ম নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি।

নিজের বক্তব্য বোঝাতে এবার বেশ অন্যরকম একটি উদাহরণও দিয়েছেন জাভেদ। আলোচনার মাঝেই টেনে আনেন বিশ্বের অন্যতম পরিচিত শিল্পপতি এলন মাস্কের নাম। তাঁর যুক্তি, কোনও মানুষ যদি মন থেকে বিশ্বাস করেন যে এলন মাস্ক তাঁর ভাই এবং আগামী মাসে তাঁকে কয়েক বিলিয়ন ডলার পাঠাবেন, তাহলে সেই বিশ্বাস থেকেও তিনি আনন্দ বা নিরাপত্তার অনুভূতি পেতে পারেন। কিন্তু সেই বিশ্বাস তাঁকে মানসিকভাবে তৃপ্তি দিলেই তো তা সত্য হয়ে যায় না। ঠিক একইভাবে, ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেও মানুষ সান্ত্বনা পেতে পারেন, কিন্তু সেই সান্ত্বনাকে ঈশ্বরের অস্তিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এরপর ধর্মবিশ্বাস কীভাবে তৈরি হয়, সেই নিয়েও নিজের মত জানান জাভেদ। তাঁর দাবি, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ যে ধর্মে জন্মগ্রহণ করেন, সেই ধর্মের বিশ্বাস নিয়েই জীবন কাটিয়ে দেন। ফলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, মানুষ নিজের যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে বিশ্বাস বেছে নেয়, নাকি ছোটবেলা থেকে পরিবার ও সমাজের কাছ থেকে পাওয়া ধারণাকেই মেনে নেয়? জাভেদের মতে, ধর্মবিশ্বাসী মানুষ অনেক সময় বাবা-মা, কোনও ধর্মগুরু বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির কথায় আস্থা রাখেন। অন্যদিকে তাঁর নিজের অবস্থান আলাদা। তিনি কোনও ব্যক্তিকে নয়, বরং সেই ব্যক্তির বক্তব্যের পিছনে থাকা যুক্তি ও ধারণাকে বিচার করতে চান।

আরও পড়ুনঃ ‘ওকে ওই অবস্থায় দেখতে পারি না…’ ‘নন্দিনী শয়’তান, অনুষ্কাকে ঘে’ন্না লাগে’ ভরতকে নিয়ে মুখ খুলে বিগ বসের অন্দরমহলের কোন কথা জানালেন জয়শ্রী?

তবে জাভেদের মন্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, তিনি ধর্ম নিয়ে শুধু সমালোচনা করেননি, বিশ্বাস মানুষের জীবনে কী ভূমিকা রাখে, সেটিও স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, কঠিন সময়ে ধর্ম বা ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস অনেককে মানসিকভাবে ভরসা দিতে পারে। কিন্তু সেই ভরসা এবং সত্যতার প্রশ্নকে এক করে দেখা উচিত নয়। একই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মকে শুধুমাত্র ‘সব একই কথা বলে’ এমনভাবে দেখাও ঠিক নয়। জাভেদের এই বক্তব্য সামনে আসার পর ফের শুরু হয়েছে বিতর্ক। ধর্ম, যুক্তি এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সীমারেখা কোথায়, সেই পুরনো প্রশ্নই তাঁর কথায় নতুন করে সামনে এসেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর