আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ওভাল অফিসে এক বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেখানে শুল্ক এবং রাশিয়া প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্ন শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ট্রাম্প। তাঁর প্রতিক্রিয়া এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে সাংবাদিককে সরাসরি চাকরি বদলানোর পরামর্শ দিয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ঘটনা শুরু হয় যখন এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে তিনি পদক্ষেপ নিলেন কি না। এর জবাবে ট্রাম্প রাশিয়ার পরিবর্তে ভারতের নাম টেনে আনেন। তাঁর দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারত ইতিমধ্যেই ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’-এর আওতায় পড়েছে, যার ফলে রাশিয়ার বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সাংবাদিকের মন্তব্যে যে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সেই ব্যাখ্যা শুনে আরও রেগে গিয়ে ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, “এটা কি পদক্ষেপ নয়?”
সাংবাদিকের যুক্তি খণ্ডন করতে গিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, এখনও ভারতের ওপর দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে সেই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন—ভারত যদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনে, তাহলে তার বড় সমস্যা তৈরি হবে। তাঁর কথায়, “আপনি যদি মনে করেন পদক্ষেপ হয়নি, তাহলে আপনার নতুন চাকরি খুঁজে নেওয়া উচিত।”
ট্রাম্প এও জানান, আমেরিকার চাপে সম্প্রতি ভারত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একইভাবে শুল্ক কমানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য একপাক্ষিক ছিল, তিনি এসে সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছেন। অর্থাৎ ভারতীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করার ইচ্ছা আপাতত নেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।
আরও পড়ুনঃ Astrology: শনি নক্ষত্র পরিবর্তন, পুজোর পরেই তিন রাশির ভাগ্যে আসছে সুখবর, বেড়ে যাবে অর্থভাগ্য
এই প্রসঙ্গে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পুতিন বলেন, আমেরিকার ভাষা ঔপনিবেশিক আমলের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন। তাঁর মতে, ভারতের মতো একটি বিশাল দেশ বা চিনের সঙ্গে এই ধরনের সুরে কথা বলা গ্রহণযোগ্য নয়।





