শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে টানাপোড়েন যেন শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ, বাতিল প্যানেল, ‘যোগ্য’ ও ‘অযোগ্য’র লম্বা তালিকা— সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় কাটাচ্ছেন বহু চাকরিপ্রার্থী। যাঁরা বছরের পর বছর স্কুলে পড়িয়েছেন, তাঁরাও হঠাৎ করেই ‘অযোগ্য’ তকমা নিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন রাস্তার ধারে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা যেন নতুন করে আশার আলো দেখাল চাকরিহারাদের।
২০১৬ সালের স্কুল শিক্ষক নিয়োগ প্যানেলকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’র ছাপযুক্ত বলে বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে আলাদা করে প্রকাশ করতে হয় ‘যোগ্য’ ও ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের নাম। সেই তালিকায় দেখা যায়, ১৮০৬ জন প্রার্থী আর স্কুল শিক্ষক পদে ফিরতে পারবেন না। এঁদের মধ্যে অনেকে বহু বছর ধরে পড়াচ্ছিলেন স্কুলে, কেউ কেউ আবার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ। তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই স্বাভাবিক ভাবেই হতাশায় ভুগছিলেন ওই প্রার্থীরা।
অন্যদিকে, নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুত। আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষক নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে। তবে যাঁদের নাম ‘দাগি’দের তালিকায়, তাঁদের এ পরীক্ষায় বসার অনুমতি নেই। অর্থাৎ, এক ঝটকায় তাঁদের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শিক্ষক হওয়ার সমস্ত রাস্তা। তবুও এঁদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে এতদিন স্কুলে পড়ানোর পরও আদালতের নির্দেশে কয়েকজনকে অযোগ্য বলা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের চিন্তার কিছু নেই। আমরা তাঁদের জন্য আইনজীবীদের পরামর্শ নিচ্ছি। শিক্ষক হিসেবে না হোক, গ্রুপ সি পদে যদি তাঁদের চাকরির ব্যবস্থা করা যায়, সেই চেষ্টা করছি।” তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার সবসময় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : দাগিদের জেরা কোথায়? এসএসসি কেলেঙ্কারিতে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে সুপ্রিম কোর্ট, রাজ্যকেও কড়া ভর্ৎসনা!
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে নিয়োগ পরীক্ষাও নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে যাঁরা আদালতের সিদ্ধান্তে চাকরি হারালেন, তাঁদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খোলা থাকতে পারে। অর্থাৎ, স্কুল শিক্ষক না হলেও অন্তত সরকারি চাকরির সুযোগ থেকে তাঁরা পুরোপুরি বঞ্চিত হবেন না। আপাতত আইনি পরামর্শ নিয়েই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা নিঃসন্দেহে ভরসা দিচ্ছে সেই হাজার হাজার প্রার্থীকে, যাঁদের ভবিষ্যৎ এতদিন অন্ধকারে ঢাকা ছিল।





