ভারত ও আমেরিকা দুই দেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে। তবে সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে এই সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতকে ঘিরে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা আলোড়ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মহলে।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, তিনি সর্বদা নরেন্দ্র মোদির বন্ধু থাকবেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ‘মহান নেতা’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন। কিন্তু একইসঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বর্তমানে মোদির কিছু কর্মকাণ্ড তাঁর পছন্দ হচ্ছে না। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা নিয়ে তিনি খোলাখুলি হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের অবনতির অন্যতম কারণ হল ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি। ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। ২৭ অগস্ট থেকে এই বাড়তি শুল্ক কার্যকর হয়েছে। নয়াদিল্লি এই পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক ও অনুপযুক্ত’ বলে উল্লেখ করেছে।
সম্প্রতি চিনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকের কয়েকদিন পরেই ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে মোদিকে পুতিন ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “মনে হচ্ছে চিনের কাছে আমরা ভারত এবং রাশিয়াকে হারিয়ে ফেলেছি।” এই মন্তব্যকেই ঘিরে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Mahua Moitra : নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে কঠোর পদক্ষেপ, মহুয়া মৈত্রর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মতুয়া মহাসঙ্ঘের চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে!
একদিকে ট্রাম্প মোদিকে ‘বন্ধু’ বলছেন, অন্যদিকে ভারতীয় পণ্যের উপর কঠোর শুল্ক চাপিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে সংকট তৈরি করছেন। কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে দুই দেশের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি আটকে রয়েছে। সবমিলিয়ে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বর্তমানে টানাপড়েনের মধ্যে দাঁড়িয়েছে। যদিও ট্রাম্পের দাবি, ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক এখনো বিশেষ, তবে তাঁর কথার অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত অনেককেই ভাবাচ্ছে।






