শহরের দুর্গোৎসব মানেই আলোর ঝলক, মণ্ডপের বাহার আর মানুষের ভিড়। প্রতিবছরই মহালয়ার আগের দিন থেকে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় উৎসবের আবহ। তবে এ বছরও সেই একই দৃশ্য দেখা গেল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার একের পর এক দুর্গাপুজোর মণ্ডপে হাজির হয়ে ফিতে কাটলেন। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠল—মহালয়ার আগেই কেন শুরু হল এই উদ্বোধনের ধুম? এই নিয়েই তৈরি হল রাজনৈতিক তরজা।
শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, মহালয়ার আগেই পুজো উদ্বোধন করে মমতা নাকি হিন্দু ধর্মকে অসম্মান করছেন। তাঁকে ‘হিন্দু বিরোধী’ বলতেও ছাড়েননি তিনি। তবে হাতিবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে দাঁড়িয়ে এর স্পষ্ট জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, “আমি মহালয়ার আগে কখনও কোনও পুজোর উদ্বোধন করি না। আজ আমি শুধু প্যান্ডেল উদ্বোধন করতে এসেছি, দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার পর থেকেই আমি পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করি।”
শনিবার দুপুরে প্রথমে হাতিবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে পৌঁছন মমতা। সেখান থেকে যান টালা প্রত্যয়ে। গোটা মণ্ডপ ঘুরে দেখেন তিনি। এই পুজোর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, “অরূপের পুজোয় আমি প্রতি বছর থিম লিখি, আর ববির পুজোয় প্রতিমার চোখ আঁকি। টালা প্রত্যয়ের পক্ষ থেকে যখন জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের সময়ে আমার কাছে অনুরোধ এল, আমি ফিরিয়ে দিতে পারিনি। এ বার থিম সংয়ের কথা আর সুর আমি নিজেই করেছি।”
এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছন শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের মণ্ডপে। এ বছর সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে নিউ জার্সির অক্ষরধাম মন্দিরের আদলে এক বিশাল মণ্ডপ। মমতা উদ্বোধন মঞ্চ থেকে বলেন, “আমাদের দুর্গোৎসবের মূল মন্ত্র হল বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য। উৎসব মানেই সবার মিলন। পুজো কোনও একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটা বাংলার সংস্কৃতির অংশ।”
আরও পড়ুনঃ Kolkata : “পুরুলিয়া-বাঁকুড়ায় জল বিদ্যুৎ নেই” — কলকাতার রাস্তাঘাটির বেহাল দশার অভিযোগের জবাবে ফের বিতর্কিত মন্তব্য ফিরহাদ হাকিমের!
রাত পোহালেই মহালয়া। তার আগেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আলোয় সেজে উঠেছে দুর্গাপুজোর মণ্ডপগুলি। একদিকে রাজনীতির কটাক্ষ, অন্যদিকে মানুষের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহে মোড়া কলকাতা। মহালয়ার দিন থেকেই বেতারে মহিষাসুরমর্দিনী শোনা শুরু হবে, আর সেই সুরেই শুরু হবে বাঙালির সর্বজনীন উৎসবের আসল পর্ব। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি ও বক্তব্যে স্পষ্ট—দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে কোনও বিভাজন নয়, বরং ঐক্য আর আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।





