বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র নিয়ে বিতর্ক বরাবরের মতোই চলতে থাকে। কেউ বলেন এ কেবল অন্ধবিশ্বাস, আবার কেউ মনে করেন গ্রহ-নক্ষত্রের গতিপথ সত্যিই মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। ঠিক সেই কারণেই ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ঘিরে তুমুল আলোচনার ঝড় উঠেছে। চন্দ্র গ্রহ যখন তুলা রাশিতে প্রবেশ করবে এবং মঙ্গলের সঙ্গে যুগলবন্দী করবে, তখন তৈরি হবে মহালক্ষ্মী রাজযোগ—এমনটাই দাবি করছে জ্যোতিষীরা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সত্যিই কি এই সংযোগে কারও ভাগ্য রাতারাতি বদলে যেতে পারে?
কন্যা রাশি
জ্যোতিষীরা বলছেন, তুলা রাশিতে এই যোগ ধন এবং বাণীর ঘরে পড়ায় কন্যা রাশির মানুষেরা হঠাৎ করে অর্থ লাভ করতে পারেন। কথার প্রভাবও নাকি বাড়বে। শুনতে বেশ আশ্চর্য লাগে, তাই না? কথার জোরেই কি আর্থিক উন্নতি সম্ভব? অনেকেই হয়তো এ নিয়ে সন্দিহান, তবে ভক্তদের মতে আটকে থাকা টাকা ফিরে আসবে, নতুন চাকরির সুযোগ মিলবে। সমালোচকরা অবশ্য হেসেই উড়িয়ে দেন এই যুক্তি—তাদের মতে এ সব নিছক মানসিক সান্ত্বনা ছাড়া কিছু নয়।
কর্কট রাশি
রাজযোগ নাকি তাদের চতুর্থ ঘরে গঠিত হবে, ফলে বাড়বে বিলাসিতা ও সম্পত্তির সুযোগ। অর্থাৎ হঠাৎই নাকি কর্কটরা পাবে প্রাচুর্য। কিন্তু এখানে বড় প্রশ্ন থেকে যায়—সত্যিই কি কেবল গ্রহের অবস্থান বদলেই বিলাসিতা আসে? নাকি এটা নিছক কাকতালীয়, যেখানে পরিশ্রম, পরিকল্পনা আর বাস্তব পদক্ষেপই প্রকৃত সম্পদ নিয়ে আসে? সংশয়ীরা স্পষ্ট বলেন, জ্যোতিষশাস্ত্র মানুষকে সহজপথে স্বপ্ন দেখায়, অথচ বাস্তব জীবনে ঘাম ঝরানোই আসল চাবিকাঠি।
কুম্ভ রাশি
তাদের নবম ঘরে এই রাজযোগ গঠিত হওয়ায় সৌভাগ্য, ধর্মীয় ঝোঁক আর আর্থিক উন্নতি হবে—এমনটাই দাবি জ্যোতিষশাস্ত্র। এমনকি বিনিয়োগকারীদের জন্যও এই সময় নাকি একেবারে সোনালী সুযোগ। কিন্তু এখানেও বিতর্ক রয়ে যায়। অর্থনীতি তো বাজারের ওঠানামা, বিশ্ব পরিস্থিতি আর নীতিনির্ধারণীর উপর নির্ভর করে। কেবল চাঁদ-মঙ্গল একই ঘরে এলেই বিনিয়োগে লাভ বাড়বে—এই ধারণা অনেকের কাছে অতি সরলীকৃত ও বিভ্রান্তিকর।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : “হিডকো ও এনকেডিএ এলাকায় জল জমার দায় পুরোপুরি মেট্রোর কাঁধে থাকবে” – কলকাতার জলমগ্ন পরিস্থিতিতে দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!
তবুও একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী কোটি কোটি মানুষ বিশ্বাস করেন। তারা আশা করেন, এমন যোগ সত্যিই তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। অন্যদিকে, সন্দেহপ্রবণরা মনে করেন এটা নিছকই মানুষের মানসিক খোরাক, যা কঠিন বাস্তব থেকে কিছুটা মুক্তি দেয়। শেষ পর্যন্ত বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, মহালক্ষ্মী রাজযোগ নিয়ে আগ্রহ কিন্তু আকাশছোঁয়া। হয়তো জ্যোতিষশাস্ত্রের আসল শক্তি এখানেই—মানুষকে এক চিলতে আশার আলো দেখানো, যদিও তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে চিরকাল দ্বিধা থেকেই যাবে।






