দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেল হপিং। সকাল থেকে রাত অবধি ঠাকুর দেখা, এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যান্ডেল ঘোরা—সব মিলিয়ে পায়ে ভর পড়ে সবচেয়ে বেশি। তার উপর ভিড়, লম্বা লাইন আর শহরের ধকল মিলে অনেকেরই বাড়ি ফিরে দেখা দেয় বাতের ব্যথা। কারও আবার ফোলা ভাব বা টান ধরার মতো সমস্যা হয়। ফলে পুজোর আনন্দের মাঝেই নেমে আসে যন্ত্রণার ছায়া। তবে কিছু সহজ যত্ন নিলেই এই ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ আশিস মিত্র জানিয়েছেন কয়েকটি সহজ উপায়, যা মেনে চললে পরের দিনটাও নিশ্চিন্তে ঘুরতে পারবেন।
ব্যথা কমাতে বরফই সেরা
পায়ে হেঁটে দীর্ঘক্ষণ ঘোরার ফলে মাংসপেশিতে চাপ পড়ে, যার ফলেই ব্যথা ও প্রদাহ তৈরি হয়। ডাক্তার মিত্রর পরামর্শ, প্রথমেই আইসপ্যাক দিন। বরফ প্রদাহ কমাতে দারুণ কাজ করে। তবে সরাসরি বরফ না দিয়ে, একটি পরিষ্কার কাপড়ে জড়িয়ে আক্রান্ত জায়গায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগাতে হবে। এতে শুধু ব্যথাই কমবে না, ফোলা ভাবও অনেকটা হালকা হয়ে যাবে। তবে একটানা অনেকক্ষণ বরফ দেওয়া উচিত নয়। কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে আবার প্রয়োগ করলে তবেই উপকার মিলবে।
ওষুধ নিয়ে সতর্কতা
অনেক সময় ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে অনেকে নিজের মতো করে পেইনকিলার খেতে শুরু করেন। কিন্তু এতে শরীরের বিশেষ করে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। তাই ডাঃ মিত্র স্পষ্ট জানালেন, পেইনকিলার নয়, বরং প্রয়োজনে খাওয়া যেতে পারে সাধারণ প্যারাসিটামল। দিনে ২-৩ বার, ১০০০ মি.গ্রা. ডোজ খেলেই আরাম মিলতে পারে। তবে এর থেকে বেশি খাওয়া বিপজ্জনক। তাই ওষুধের সীমা মানতেই হবে।
মলম ও স্প্রে ব্যবহার
বাজারে নানা ধরনের ব্যথার মলম ও স্প্রে পাওয়া যায়। প্রয়োজনে সেগুলি ব্যবহার করলে সাময়িক আরাম পাওয়া যায়। যদিও ডাক্তারদের মতে, এগুলি খুব বেশি উপকার করে না। তবে হালকা ব্যথার ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে ক্ষতি নেই। সঙ্গে যদি বিশ্রাম ও আইসপ্যাক দেওয়া যায়, তাহলে প্রভাব আরও ভালো হয়।
সমস্যা এড়ানোর সহজ টিপস
পায়ে ব্যথা হওয়ার পর যত্ন নেওয়া এক কথা, তবে আগেভাগে প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তাই ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে মেনে চলুন কয়েকটি নিয়ম—
১. একটানা দীর্ঘক্ষণ হাঁটবেন না। ১০-১৫ মিনিট হাঁটার পর একটু বসে বিশ্রাম নিন।
২. দিনে সর্বাধিক ২-৩ ঘণ্টা হাঁটার পরিকল্পনা করুন।
৩. সবসময় আরামদায়ক ও মানসম্মত জুতো পরুন। এতে পায়ে চাপ কমবে এবং সাপোর্ট মিলবে।
আরও পড়ুনঃ নতুন জুতোয় ফোসকা? কয়েকটি সহজ নিয়মে মিলবে আরাম, ডাক্তার জানালেন সমাধান
পুজোর আনন্দে শরীরের যত্ন নেওয়া অনেক সময় অবহেলিত হয়। কিন্তু ব্যথা-অসুবিধা যাতে মেজাজ নষ্ট না করে, তার জন্য সামান্য সতর্কতাই যথেষ্ট। ঠাকুর দেখার আনন্দে যেন কোনো ব্যথা বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায়, তাই এই টিপস মাথায় রেখেই বেরিয়ে পড়ুন প্যান্ডেল হপিংয়ে।





