দূর্গাপূজার আনন্দের মুহূর্তগুলো সাধারণত আনন্দ, উল্লাস এবং পারিবারিক মিলনের সময় হিসাবে চিহ্নিত হয়। কিন্তু এবার পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের জন্য এই আনন্দের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্বেগও যুক্ত হয়েছিল পুজোর আগে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়েছিলেন হঠাৎ জলস্তর বৃদ্ধির কারণে, যা পুজোর আনন্দকে প্রভাবিত করতে পারত। সবাই আশা করছিল উৎসব শান্তিতে শেষ হবে, কিন্তু পুজোর আগেই পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে দাঁড়ালো।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, দুর্গাপূজার মরসুমে রাজ্য সরকারকে কোনো আগাম সতর্কতা না দিয়ে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ বাঁধ থেকে একতরফাভাবে ৬৫০০০ কিউসেক জল ছেড়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই পদক্ষেপ বাংলার সাধারণ মানুষকে তাৎক্ষণিক বিপদের মধ্যে ফেলেছে এবং এটি একটি মনুষ্যকৃত দুর্যোগ।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই হঠাৎ পদক্ষেপের ফলে বাংলার লক্ষাধিক মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে নদীর তীরে বসবাসরত মানুষেরা সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। তিনি বলেন, এটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এককেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের ফলাফলের সৃষ্টি। ফলে উৎসবের আনন্দের পরিবর্তে মানুষ আতঙ্কিত অবস্থায় পড়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এই বেপরোয়া কাজটি আমাদের পবিত্র উৎসবে দুর্দশা সৃষ্টির প্রচেষ্টার চেয়ে কম কিছু নয়। এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপ লজ্জাজনক এবং একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।” তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাংলার বিসর্জন কেউ করতে দেবে না এবং জনগণের বিরুদ্ধে প্রতিটি ষড়যন্ত্র পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে। পোস্টের শেষে তিনি লিখেছেন, “জয় মা দুর্গা।”
আরও পড়ুনঃ ঠাকুর দেখতে গিয়ে ভয়ংকর কাণ্ড, নবমীর রাতে ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যাওয়ার নামে নাবালিকাকে ‘গণধ’র্ষণ’! গ্রেপ্তার তিন যুবক
রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় মানুষের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে স্থানীয় স্তরে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। সাধারণ মানুষকে আপাতত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্গাপূজার আনন্দ বজায় রেখে বিপদ এড়ানো যায়।






