দুর্গা পুজো শেষে শহরজুড়ে যখন ভাসানের আমেজ, তখন ঠিক সেই সময়েই গার্ডেনরিচে ঘটে গেল ভয়াবহ এক ঘটনা। শনিবার রাতের গার্ডেনরিচের পাহাড়পুর রোডে একটি বারোয়ারি পুজোর ভাসানকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। মুহূর্তের মধ্যেই জমে ওঠা উৎসবের পরিবেশ পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গোলমালের মাঝে কয়েকজন স্থানীয় যুবক পুলিশের উপর চড়াও হয়। এমনকি রাস্তার মধ্যেই পুলিশকর্মীদের টানতে টানতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা শুনে হতবাক পুরো এলাকা।
দশমীর পরদিন রাত দশটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে যখন ভাসান চলছিল জোরকদমে। হঠাৎই বচসার সূত্র ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এগিয়ে গেলে ভিড়ের কিছু অংশ উন্মত্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ইট, লাঠি, বাঁশ—যা সামনে পেয়েছে তাই দিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালানো হয়। কয়েকজন পুলিশকর্মীকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনায় আহত হয়েছেন মোট চারজন, তাদের মধ্যে রয়েছেন এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারও।
এই হামলার ঘটনায় আরও স্তম্ভিত করে তুলেছে এক নয়া অভিযোগ। আক্রান্তদের মধ্যে মহিলা সিভিক কর্মীর শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন মদ্যপ অবস্থায় ছিল। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে ফের কোনও অশান্তি না ছড়ায়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, দশমীর পরও বিভিন্ন জায়গায় বিসর্জন চলছিল, একাদশী ও দ্বাদশীতেও। রবিবার কার্নিভালের আগে শহরজুড়ে বিসর্জনের প্রস্তুতি ছিল তুঙ্গে। তার আগেই এই ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশকর্তারা জানিয়েছেন, রেড রোডে কার্নিভালের দিন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ইতিমধ্যে গার্ডেনরিচের ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুনঃ Newtown : নিউটাউনের গেস্ট হাউসে উদ্ধার নিখোঁজ আইটি কর্মীর পচাগলা দে*হ! তদন্তে নেমেছে পুলিশ!
পুজোর সময় পুলিশের উপর হামলা এই প্রথম নয়। সম্প্রতি টিটাগড়েও বিসর্জনের রাতে পুলিশের উপর হামলা হয়েছিল, তখনও বিক্ষুব্ধ জনতা মারধর করে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছিল। উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জ বা মুর্শিদাবাদেও একইভাবে পুলিশ নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল। ক্রমাগত পুলিশের উপর বাড়তে থাকা এই হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। সাধারণ মানুষের উৎসবের আনন্দ যেন আর কোনোদিন এমন হিংসার পরিণতি না ডাকে—এই কামনাই এখন শহরবাসীর।






