দুর্গাপুরের নিস্তব্ধ রাতে নৃশংসতার ছায়া। চিকিৎসা পড়ুয়ার উপর নির্মম অত্যাচারের ঘটনায় আতঙ্কিত গোটা এলাকা। শান্ত শহরের বুকে এমন ঘটনা চমকে দিয়েছে সাধারণ মানুষকেও। এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের তরুণী পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুর্গাপুরজুড়ে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের খোঁজে নেমেছে পুলিশ, জারি হয়েছে বড়সড় তল্লাশি অভিযান।
ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। পুলিশ সূত্রে খবর, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ঘেঁটে ধৃতদের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। তবে ধৃতদের নাম বা পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হয়নি তদন্তের স্বার্থে। এই ঘটনায় মোট পাঁচজন অভিযুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি দুইজন এখনও পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের ধরতেই চলছে তল্লাশি অভিযান।
এখনও অধরা অভিযুক্তদের সন্ধানে জোরকদমে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। দুর্গাপুরের জঙ্গলে বাইক ও সাইকেল নিয়ে চলছে খোঁজ, এমনকি ড্রোন উড়িয়ে নজরদারিও রাখা হচ্ছে এলাকাজুড়ে। শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ কর্তারা। পুলিশ কমিশনার নিজে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা তরুণী ওড়িশার জলেশ্বরের বাসিন্দা এবং দুর্গাপুরের এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করেন। ঘটনার রাতে, অর্থাৎ ১০ অক্টোবর, রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে বাইরে খেতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ই কয়েকজন যুবক তাঁদের পথ আটকায়। এরপর তরুণীকে জোর করে হাসপাতালের পেছনের জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। সহপাঠী দুষ্কৃতীদের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ED Raid in Kolkata: মন্ত্রী সুজিত বসুর অফিসে রাতভর ইডি অভিযান! উদ্ধার ৪৫ লক্ষ টাকা— পুরনিয়োগে বিস্ফোরক তথ্যের হদিশ?
নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, ওই সহপাঠীই তরুণীকে বাইরে যেতে বাধ্য করেছিলেন। পুলিশের হাতে ধৃত এই ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তাঁকে আটক করে জেরা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে প্রথমে তিনজন যুবক উপস্থিত থাকলেও পরে আরও দুজন সেখানে আসে বলে জানা গেছে। নির্যাতিতার ফোন কলের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এখন নজর পলাতক দুই দুষ্কৃতীর দিকে—যাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে জঙ্গলের ভিতরেও।





