কর্মক্ষেত্র মানে শুধুমাত্র কাজের জায়গা নয়, মানবিকতারও জায়গা। কিন্তু সম্প্রতি এক ব্যাংক আধিকারিকের নির্দয় মন্তব্য সেই মানবিকতার মাপকাঠিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। “মা তো সকলেরই মারা যায় ছুটি নেওয়ার কী আছে!” — এই কথাটিই নেটদুনিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
ঘটনাটি ইউকো ব্যাঙ্কের চেন্নাই জোনাল অফিসের। এক কর্মচারী তাঁর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন অমানবিক ও স্বৈরাচারী আচরণের। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, অফিসের পরিবেশ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেখানে ভয়, অপমান আর চাপে কর্মীরা দমবন্ধ অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য। অভিযোগে উঠে এসেছে, ওই জোনাল হেড অধস্তনদের সঙ্গে ব্যবহার করেন যেন তারা পেশাদার নয়, চাকর-বাকর।
সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা ঘটে যখন এক কর্মী তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর ছুটি চান, কিন্তু স্যার বলেন, “সবাই মা হারায়, ছুটি নিয়ে নাটক করো না।” আরেকজন কর্মীর মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁর ছুটির আবেদনও ফিরিয়ে দেন এই বলে, “তুমি ডাক্তার নও, অফিসে এসো না হলে বেতন ছাড়াই ছুটি নাও।” এমনকি এক কর্মীর স্ত্রী অসুস্থ হলে তাঁকে “অপদার্থ” বলে কটাক্ষ করা হয়। অভিযোগ, এইভাবে বারবার কর্মীদের মর্যাদা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগকারী জানিয়েছেন, তিনি ইউকো ব্যাঙ্কের ম্যানেজমেন্টের কাছেও এই ব্যাপারে লিখিতভাবে জানান। তাঁর দাবি, এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাজের জায়গায় “ভয় ও নিপীড়নের পরিবেশ” তৈরি করেছেন। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা মন্তব্য করেছেন—“এটা একনায়কতন্ত্র ছাড়া কিছু নয়।” অনেকে আবার স্ক্রিনশট শেয়ার করে বিষয়টি রিজার্ভ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রকের নজরে এনেছেন।
আরও পড়ুনঃ Diwali 2025 : দীপাবলির রাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একই সুর—দীপাবলির আনন্দে ঠিক কী নিয়ে সতর্ক করলেন তাঁরা?
এই মুহূর্তে ইউকো ব্যাঙ্ক বা তাদের চেন্নাই জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন—যদি সরকারি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এমন নিষ্ঠুর মানসিকতা প্রদর্শন করেন, তবে কর্মক্ষেত্রে মানবিকতার জায়গা কোথায়? নেটিজেনদের একাংশের বক্তব্য, “যিনি সহানুভূতির মানে বোঝেন না, তাঁর হাতে নেতৃত্ব দেওয়া মানেই অন্যায়কে স্বীকৃতি।” এখন দেখার বিষয়—এই ঘটনার তদন্তে ব্যাঙ্ক কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।





