High Court Verdict: ‘সম্মতিতেই সম্পর্ক’—এই পর্যবেক্ষণে ধর্ষ*ণের মামলা খারিজ! হাইকোর্টের রায় ঘিরে চাঞ্চল্য, কী ছিল আসল ঘটনা?

আজকের দিনে ডেটিং অ্যাপ-এর মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে অনেক সময় তা নিয়ে শুরু হয় আইনি লড়াই। এমনই এক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কর্নাটকে (Karnataka)। সম্প্রতি কর্নাটক হাইকোর্ট একটি ধর্ষণ মামলা খারিজ করেছে, যেখানে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে— দুই প্রাপ্তবয়স্কের পারস্পরিক সম্মতিতে তৈরি হওয়া সম্পর্ক, পরবর্তীতে তা ভেঙে গেলেও, তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না।

অভিযোগ ওঠে, এক তরুণ ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে আলাপ হওয়া এক মহিলাকে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেছিলেন। ইনস্টাগ্রামে প্রায় এক বছর ধরে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ২০২৪ সালের ১১ অগস্ট তারা প্রথম দেখা করেন। একসঙ্গে সময় কাটানোর পর তাঁরা একটি হোটেলে যান, যেখানে ঘনিষ্ঠতা ঘটে। পরের দিন অভিযুক্ত তরুণীকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। এরপর তরুণী হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসকরা তাঁকে জানান, তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন, এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর ৬৪ ধারায় মামলা রুজু হয়।

যুবক নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে কর্নাটক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর দাবি, যা কিছু ঘটেছে, তা সম্পূর্ণভাবে পারস্পরিক সম্মতিতেই। ফটো, ভিডিও এবং চ্যাট মেসেজেই সেই প্রমাণ রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তদন্তকারী আধিকারিক ইচ্ছাকৃতভাবে ওই প্রমাণগুলি চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করেননি। অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, সম্মতির প্রশ্নটি আদালতের বিচারপর্বে স্পষ্ট হবে— তাই এখনই মামলা খারিজ করা উচিত নয়।

সব নথি, বার্তা ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে বিচারপতি এম নাগপ্রসন্ন মন্তব্য করেন— “দুই প্রাপ্তবয়স্কের পারস্পরিক ইচ্ছায় তৈরি সম্পর্ক, তা যদি পরবর্তীতে হতাশায় শেষ হয়, তাও অপরাধ নয়, যদি না সেটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হয়।” আদালত আরও জানায়, তাঁদের মধ্যে যে চ্যাট বিনিময় হয়েছে তা হয়তো শালীন নয়, কিন্তু তাতে স্পষ্ট যে সম্পর্কটি সম্মতিক্রমেই ঘটেছিল।

আরও পড়ুনঃ Mole*station : পার্ক স্ট্রিট-এর নাসির ফের আলোচনায়! বাইপাসের নাইট ক্লাবে যুবতীর শ্লীলতা*হানির অভিযোগে ফের অন্ধকার অধ্যায় ফিরে এল কলকাতায়!

বিচারপতি নাগপ্রসন্ন বলেন, “এই মামলাটি যদি বিচারপর্যায়ে পাঠানো হয়, তবে তা শুধু বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার নয়, বরং ন্যায়বিচারেরও পরিপন্থী হবে।” তাই আদালত অভিযুক্তের পক্ষে রায় দিয়ে এফআইআর বাতিলের নির্দেশ দেয়। এই রায় শুধু এক ব্যক্তির মুক্তির পথ খুলে দেয়নি, বরং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে— পারস্পরিক সম্মতিতে তৈরি সম্পর্কের পর ভাঙনকে অপরাধ হিসেবে দেখা যাবে না। তবে সমাজে এমন সংবেদনশীল সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছে আদালত।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles