Dengue: ডেপুটি মেয়রের ওয়ার্ডে ডেঙ্গিতে ৭ বছরের মেয়ের মৃত্যু! কলকাতা পৌরসভার কাজ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন!

কলকাতা ও তার আশপাশে ডেঙ্গির সংক্রমণ ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন, কেউ কেউ প্রাণও হারাচ্ছেন । সাধারণ মানুষ থেকে প্রশাসন—সবার মধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষত, এবার যে ঘটনায় প্রাণ গেল, তা সরাসরি পৌর প্রশাসনের নজরকাড়া ওয়ার্ডের মধ্যেই ঘটেছে, যা প্রশ্ন তুলছে শহরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে।

শহরের বুকে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল মাত্র সাত বছরের এক শিশুর। মৃত নাবালিকার নাম আদৃশা পোদ্দার। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ইএম বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে। আদৃশা কলকাতা পৌরনিগমের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এই ওয়ার্ডেরই দায়িত্বে রয়েছেন ডেপুটি মেয়র তথা স্বাস্থ্য বিষয়ক মেয়র পারিষদ সদস্য অতীন ঘোষ। ফলে ঘটনার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব এখন আরও বেড়েছে।

পরিবারের দাবি, গত ২৫ অক্টোবর থেকেই জ্বরে ভুগছিল আদৃশা। শুরুতে গুরুত্ব না দিলেও, অবস্থার অবনতি ঘটলে ২৮ অক্টোবর স্থানীয় এক নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। সন্দেহ হয় ডেঙ্গির। এরপরই দ্রুত তাকে বাইপাসের ধারের মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বহু চেষ্টা সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। মঙ্গলবার রাতে নিভে যায় ছোট্ট আদৃশার প্রাণ।

হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, আদৃশা ডেঙ্গিতে আক্রান্তই ছিল। তবে ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ এখনও এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। কলকাতা পৌরনিগমের তরফে জানানো হয়েছে, মৃত নাবালিকার সমস্ত শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পৌরকর্তারা দাবি করেছেন, বছরভর সব ওয়ার্ডে নিয়মিত ফগিং, লার্ভা নাশক স্প্রে এবং সচেতনতা প্রচার চালানো হয়। তবুও কেন এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নাগরিক মহলে।

আরও পড়ুনঃ West bengal Assembly : ভোটের আগে ভূতের দখলে বিধানসভা ভবন? রাত নামলেই খুটখাট শব্দ, অন্ধকার দোতলায় নাকি ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘তেনারা’?

প্রসঙ্গত, এর আগেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর এলাকায় একই পরিবারের দুই সদস্য—বিপ্লব সর্দার ও বন্দনা সরকারের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গিতে। তাদের পরিবারের অন্য সদস্যেরাও আক্রান্ত হন। কয়েকদিন আগে বিধাননগরেও রূপসী জানা নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয় একই কারণে। ফলে একের পর এক মৃত্যু শহর ও উপশহরে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা ও পরিষ্কার পরিবেশ বজায় রাখলেই এই সংক্রমণ রোখা সম্ভব। কিন্তু ততদিনে কত প্রাণ যাবে—এই প্রশ্নই এখন ভর করছে নাগরিকদের মনে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর