দেশে এখন নির্বাচনের আবহ। বিহারের ভোটে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে রাজনৈতিক প্রচার। একদিকে এনডিএ–র সভা, অন্যদিকে কংগ্রেস–আরজেডি জোটের সমাবেশ—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত রাজ্যের ভোটমঞ্চ। ঠিক এই সময়েই একতা দিবসের মঞ্চ থেকে সরাসরি কংগ্রেসকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বক্তব্যে ইতিহাস টেনে আনলেন, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল থেকে কাশ্মীর ইস্যু—সব কিছুর জন্যই কংগ্রেস এবং জওহরলাল নেহরুকে দায়ী করলেন তিনি।
গুজরাটের কেভাডিয়ায় সর্দার প্যাটেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাঁর অভিযোগ, “দেশভাগ থেকে শুরু করে কাশ্মীরের জটিলতা—সবই কংগ্রেসের ভুল সিদ্ধান্তের ফল।” মোদীর দাবি, “সর্দার প্যাটেল স্বাধীন ভারতের গঠনকাজে বিশাল ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসই তাঁর স্বপ্ন পূরণে বাধা দেয়। ওরা ব্রিটিশদের স্বার্থই বজায় রেখেছে।”
ভাষণে কাশ্মীরের প্রসঙ্গও এড়িয়ে যাননি মোদী। তাঁর অভিযোগ, “প্যাটেল গোটা কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নেহরু তাঁকে তা করতে দেননি।” প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষোভ স্পষ্ট—“কাশ্মীরকে আলাদা সংবিধান ও পতাকা দেওয়া হয়েছিল, আর সেই ভুলের বোঝা এখনও বইছে দেশ।” মোদীর কথায়, “কংগ্রেসের দুর্বলতার জন্যই কাশ্মীরের একাংশ আজ পাকিস্তানের দখলে।”
বহুবারই বিজেপি অভিযোগ করেছে, স্বাধীনতার পর নেহরু সর্দার প্যাটেলকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেননি। বিজেপির দাবি, সেই কারণেই ভারতের রাজনৈতিক একীকরণের প্রক্রিয়ায় বাধা আসে। মোদী সেই অভিযোগই নতুন করে সামনে আনলেন প্যাটেলের জন্মদিনে। তাঁর মতে, “যদি প্যাটেল স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন, তবে কাশ্মীর আজ সম্পূর্ণভাবে ভারতের অংশ থাকত।”
আরও পড়ুনঃ Gold theft: ‘আমায় মারবেন না’… তবুও সোনা–সহ স্কুটি নিয়ে চম্পট দুষ্কৃতীদের! সিঁথিতে দুঃসাহসিক ডাকা*তিতে আতঙ্ক ছড়াল এলাকায়!
এই মন্তব্য শুধু ইতিহাসচর্চা নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। কারণ বিহারের নির্বাচনের ঠিক আগে কংগ্রেসকে নিশানা করা নিঃসন্দেহে বিজেপির কৌশল। একদিকে আরজেডি–কংগ্রেস জোট বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ইতিহাসের দোহাই দিয়ে কংগ্রেসকে দায়ী করে ভোটের মঞ্চে ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছেন। শেষ পর্যন্ত একতা দিবসের মঞ্চ থেকে মোদীর বার্তা ছিল স্পষ্ট—“দেশ আজ একতার পথে এগোচ্ছে, কিন্তু অতীতে কংগ্রেসের ভুলই আজকের বিভাজনের কারণ।” অর্থাৎ বিহারের মাটিতে লড়াই যতই তীব্র হোক, তার রাজনৈতিক তীর এবার ছুটে গেল বহু দশকের পুরনো ইতিহাসের দিকে।






