শিলিগুড়ির মেয়ে রিচা ঘোষ এখন গর্বের প্রতীক। সারা দেশ যখন তাঁর বিশ্বজয়ের কাহিনি নিয়ে মেতে উঠেছে, তখন শুক্রবার সকালেই নিজের শহরে ফিরলেন তিনি। গোটা শহর যেন সাজানো উৎসবের সাজে— হোর্ডিং, ব্যানার, লাল গালিচা, আর ঢাকঢোলের তালে তালে একটাই নাম উচ্চারিত— রিচা! ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটই ছিল তাঁর ভালোবাসা, কিন্তু আজ সেই ভালোবাসাই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে এক ঐতিহাসিক সাফল্যে।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ভারতের নারী দল জিতেছে বিশ্বকাপ, আর সেই দলের অন্যতম নায়িকা রিচা ঘোষ। ছোটবেলা থেকেই একটাই লক্ষ্য ছিল— ভারতের জার্সি গায়ে মাঠে নামা। শুক্রবার শিলিগুড়ি ফিরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রিচা জানালেন, “স্বপ্ন ছিল দেশের হয়ে খেলার। আজ যখন ট্রফি হাতে, তখন মনে হচ্ছে মা-বাবার ত্যাগ সার্থক।” তিনি আরও বলেন, নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম আর শৃঙ্খলাই তাঁর জীবনের তিনটি মূলমন্ত্র।
রিচাকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে দেখতে হাজির হয়েছিল হাজারো মানুষ। ঢাক-ঢোল, ফুলের মালা, আর শুভেচ্ছা বার্তায় ভরে ওঠে গোটা এলাকা। এরপর হুডখোলা জিপে চেপে রিচা শহরে ফেরেন। সুভাষপল্লি থেকে বাঘাযতীন পার্ক পর্যন্ত রাস্তা লাল গালিচায় মোড়া। মহিলা ক্রিকেটাররা ব্যাট তুলে তাঁকে গার্ড অফ অনার দেন। সন্ধ্যায় শিলিগুড়ি পুরনিগম ও শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের তরফে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছক্কা এসেছে রিচার ব্যাট থেকে— মোট ১২টি। সেমিফাইনাল আর ফাইনালে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং দলকে এগিয়ে দেয়। নিজের সাফল্যের প্রসঙ্গে রিচা বলেন, “এই জয়ই শেষ নয়, সামনে আরও লক্ষ্য আছে। এবার চোখ টি-২০ বিশ্বকাপে।” সঙ্গে বার্তা দেন— মেয়েদের খেলাধুলায় আরও এগিয়ে আসতে হবে, কারণ মেয়েরাও পারে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে।
আরও পড়ুনঃ Mohammed Shami : ‘চার লক্ষে সংসার চলে না!’ শামির বিরুদ্ধে ফের আদালতে হাসিন, নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট!
শনিবার কলকাতায় ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের পক্ষ থেকে রিচাকে সম্মানিত করা হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও ঝুলন গোস্বামী। তাঁকে উপহার দেওয়া হবে একটি সোনার ব্যাট ও বল, যেখানে থাকবে দুই কিংবদন্তির সই। রিচার এই প্রত্যাবর্তন যেন গোটা শিলিগুড়ির উৎসব। তাঁর কথায়, “যত মেয়ে খেলাধুলায় আসবে, তত দেশ এগোবে।” নিষ্ঠা, পরিশ্রম আর শৃঙ্খলার এই পাঠই আজ অনুপ্রেরণা সকলের জন্য।





