ঝাঁসির একটি জনপ্রিয় হোটেলের লবি—ব্যস্ততা আর আলো-আঁধারের মাঝে কাজ করছিলেন এক তরুণী রিসেপশনিস্ট। ঠিক সেই সময় ঘটে এমন এক ঘটনা, যা শুধু ওই তরুণীকে নয়, নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা শহরকে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভিডিয়ো, আর তাতেই শুরু ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। ধীরে ধীরে সামনে এসেছে অভিযুক্তের পরিচয়, আচরণ এবং আইনি পদক্ষেপের তথ্য।
প্রথমে জানা যায়, অভিযুক্ত যুবক ঝাঁসির এক পরিচিত গয়না ব্যবসায়ীর ছেলে। সেই পরিচয় সামনে আসতেই বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়। সূত্রের খবর, ঘটনার দিন মদ্যপ অবস্থায় দুই তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে ওই ব্যবসায়ীপুত্র হোটেলে প্রবেশ করেন। প্রথমদিকে তাঁর আচরণে বিশেষ কিছু নজরে পড়েনি। হালকা কথা বলার ছলে তিনি রিসেপশন কাউন্টারের সামনে দাঁড়ান। কিন্তু ঠিক লিফ্টে ওঠার আগে এমন কিছু করেন, যা তরুণীকে হতভম্ব করে দেয়।
তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত হঠাৎই এগিয়ে এসে তাঁর গালে জোর করে চুমু খান। এতে তরুণী অস্বস্তিতে পড়ে পিছিয়ে যান। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই যুবক ফের লবিতে ফিরে এসে এবার তরুণীকে জোর করে জড়িয়ে ধরেন এবং আবার চুমু খান। পুরো ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে গেলেও তরুণী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন—এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মীরাও পরিস্থিতি দেখে অবাক হয়ে যান।
এই আচরণের প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজেই ধরা পড়ে পুরো ঘটনা। পরে সেই ফুটেজ সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সাংবাদিক সচিন গুপ্ত তাঁর এক্স হ্যান্ডলে ভিডিয়োটি পোস্ট করলে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনেকেই অভিযুক্তের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান। মন্তব্যে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়, প্রশ্ন ওঠে সমাজে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানেরা কি দায়মুক্ত?
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : ট্রাইবুনালের কঠোর রায়! শেখ হাসিনা ও কামালকে মৃত্যু*দণ্ড! বাংলাদেশ জুড়ে হিংসার শঙ্কা!
অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত নড়েচড়ে বসে ঝাঁসি পুলিশ। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত আমন আগরওয়ালকে গ্রেফতার করা হয়েছে—এমনটাই জানানো হয়েছে ঝাঁসি পুলিশের এক্স পোস্টে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে। পুলিশের দাবিতে, তদন্তে কোনওরকম শিথিলতা রাখা হবে না। অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে এখনও চলছে তরুণীর পাশে দাঁড়ানোর ঢল, আর অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।





