স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ নিয়ে রাজ্যে বিতর্ক থামছেই না। বহুদিন ধরেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন্দ্র করে অসন্তোষ, রাগ, অভিযোগ—সবটাই জড়িয়ে রয়েছে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে। তাই নতুন করে যখন একাদশ-দ্বাদশ পর্যায়ের প্রাথমিক ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ পায়, তখন বহু প্রার্থী কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন। কিন্তু প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার সামনে আসে নতুন প্রশ্ন। তালিকায় এমন কিছু নাম উঠে এসেছে, যা পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকেই ফের খাদের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
শনিবার যেদিন এই প্রাথমিক ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করা হয়, সেদিন থেকেই অভিযোগের স্রোত শুরু। বহু প্রার্থী দাবি করেন, তালিকায় নাকি কয়েকজন ‘দাগি’ অযোগ্য প্রার্থীর নাম রয়েছে—যারা আগের নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়েছিল। সেই অভিযোগই পৌঁছয় কলকাতা হাইকোর্টে। আদালতে শোনানির সময় কমিশনের পক্ষ থেকে স্বীকারও করা হয় যে তালিকায় চারজন অযোগ্য ‘দাগি’ প্রার্থীর নাম রয়েছে। এর মধ্যে দু’জন বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থী বলে কারণ দেখানো হয়, কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হয়নি আদালত।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন—সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কোনও অযোগ্য বা ‘দাগি’ প্রার্থী নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, বিচারপতি অমৃতা সিনহা পরিষ্কার ভাষায় বলেন, শুধু নাম প্রকাশ করলেই চলবে না—প্রতিটি দাগি প্রার্থীর সম্পূর্ণ তথ্য, যেমন নাম, অভিভাবকের নাম—সবই প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইন্টারভিউ তালিকায় থাকা প্রার্থীদের OMR শিট-ও প্রকাশ করতে। আদালত ফের জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনও অযোগ্য প্রার্থী তালিকায় ঢুকে থাকে, তাহলে আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁদের নাম বাদ দিতেই হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ ডিসেম্বর।
কমিশনের দাবি ছিল, দু’জন বিশেষভাবে সক্ষম বলে তাঁদের নাম রাখা হয়েছে। কিন্তু আদালত প্রশ্ন তোলে—যদি তাঁরা দাগি হন, তবে তাঁদের ক্ষেত্রে ছাড়ের কী ভিত্তি? আদালতের সেই প্রশ্নের পর কমিশন আশ্বাস দিয়েছে যে আদালত যাই নির্দেশ দেবে, তার বাইরে কোনো নিয়োগ হবে না। প্রয়োজনে ওই দু’জনসহ সব দাগি প্রার্থীর নামই বাদ দিতে বাধ্য থাকবে কমিশন।
আরও পড়ুনঃ West Bengal politics : ছাব্বিশের নির্বাচনে বিজেপির ‘মেগা বাজেট’, নজরদারিতে দিল্লি, রাজ্য কমিটিতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা!
ইতিমধ্যেই একই পর্যায়ের আরেকটি মামলায় কমিশন জানিয়ে দিয়েছে—পার্ট-টাইম শিক্ষকরা কোনও ভাবেই অভিজ্ঞতার নম্বর পাবেন না। যদি কেউ ভুল তথ্য দেন, সরাসরি বাতিল হবে প্রার্থীপদ। এই মামলার শুনানিও নির্ধারিত হয়েছে ২ ডিসেম্বর।






