রাজ্যের রাজনীতি এবার বিশেষ চাপে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election, West Bengal 2026) দিকে এগোতেই রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই প্রচারের তাণ্ডব শুরু করেছে। বিশেষ করে বিজেপির প্রচার-ব্যয়ের অঙ্ক নজর কাড়ার মতো। দলের সর্বশেষ সূত্র বলছে, রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারের জন্য এবার যে বাজেট পরিকল্পনা হয়েছে, তা নিছক ব্যয়ের তুলনায় অনেক বড়।
পদ্ম শিবিরের অভ্যন্তরীণ খবর অনুযায়ী, শুধু রাজ্য কমিটি নয়, বরং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুরো নির্বাচনী বাজেট এবং খরচের তদারকি করছে। সংগঠন-প্রচার থেকে বুথ স্তরের ব্যয়—সবই দিল্লির অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ রাজ্যের জেলা ও আসনভিত্তিক বরাদ্দে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবার কেন্দ্র থেকে আসবে।
সূত্রের খবর, আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বরের মধ্যে বঙ্গ বিজেপি নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা করতে পারে। নতুন কমিটিতে অনেক পুরনো সদস্য ফের আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন—সায়ন্তন বসু, রীতেশ তেওয়ারি, রাজকমল পাঠক, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সমীরন সাহাও ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এদিকে, নির্বাচনের সময় বাংলায় থাকবেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দলের বাজেট ও সংগঠনের প্রতিটি খাতের অনুমোদন তার দায়িত্বে থাকবে।
বিজেপি এই নির্বাচনে কিছু আসনকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করে খরচ বাড়াচ্ছে। সাধারণ একটি আসনে যেখানে গড় বরাদ্দ প্রায় এক কোটি, সেখানে ‘জয়ের লক্ষ্য’ আসনে খরচ কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সভা, হেলিকপ্টার যাত্রা, পাঁচতারা হোটেলে শীর্ষ নেতাদের থাকা—এসব খরচও কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে বহন করা হচ্ছে, যা রাজ্য কমিটির হিসাবের বাইরে।
আরও পড়ুনঃ Delhi bla*st : জেলেই প্রাণে মা*রার চক্রান্ত! দিল্লি বিস্ফোরণে জঙ্গি চিকিৎসকের ওপর হামলা, প্রশ্ন জেলের নিরাপত্তা নিয়ে!
২০২১ সালের নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে, এবার বাজেট কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও দলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠছে—এত প্রচণ্ড ব্যয় সত্ত্বেও ফলাফল কি গতবারের মতো একই অবস্থা হবে নাকি এবার জয় নিশ্চিত হবে? সব মিলিয়ে, ভোটের আগে বিজেপির ‘মেগা বাজেট’ এবং কেন্দ্রীয় তদারকির এই ধারা রাজ্যের রাজনৈতিক দুনিয়ায় উত্তেজনার পারদ আরও বাড়াচ্ছে।





