প্রাথমিকের ৩২ হাজার নিয়োগ বাতিল মামলায় বড় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন শিক্ষকরা। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে জানিয়ে দেয় যে নয় বছর পর কারও চাকরি কেড়ে নেওয়া হলে তা শুধু শিক্ষা ব্যবস্থাকেই নয়, কর্মীদের পরিবারকেও বিপদের মুখে ফেলবে। দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা প্রার্থীদের কাছে এটি যেন অন্ধকারে এক আলো হয়ে উঠেছে।
রায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল তরজা। তৃণমূল কংগ্রেস এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছে বাংলার বিরোধীদের প্রচার এখন কার্যত ভেস্তে গেল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া সঠিক ছিল এবং বিরোধীরা শুধু বিভ্রান্তি ছড়াতেই ব্যস্ত ছিল। তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী আরও একধাপ এগিয়ে আক্রমণ করে বলেন, বিরোধীরা যেন ঢাকি নিয়ে বিসর্জনের অপেক্ষায় বসে ছিলেন, কিন্তু শেষমেশ তাঁদের চক্রান্ত ব্যর্থ হল।
এই রায় নিয়ে বিজেপির অবস্থান একেবারেই উলটো। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান সিঙ্গল বেঞ্চের রায় ছিল তথ্য ও নথির ওপর ভিত্তি করে, আর ডিভিশন বেঞ্চ মানুষের সংসারচাপ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর মতে আইনে সবসময়ই নথি, তথ্য এবং প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়া উচিত। ফলে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় পরোক্ষভাবেই রায়ের যুক্তিকেই প্রশ্নের মুখে তুললেন তিনি।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে ফের একবার কটাক্ষের নিশানায় আসেন তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। অরূপ চক্রবর্তী দাবি করেন, তিনি নিরপেক্ষ ছিলেন না এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই রায় দিয়েছিলেন। তাঁর ‘ঢাকি সমেত বিসর্জন’ মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তৃণমূল বুঝিয়ে দিয়েছে এই রায়কে কেন্দ্র করে তাদের আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়বে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal tourism : গোয়া–কেরলকে পিছনে ফেলে বিদেশিদের দৌড়ে বাংলা নাম্বার ওয়ান! কী এমন ঘটল যে বিশ্বের পর্যটকেরা হঠাৎ ডেস্টিনেশন পাল্টাচ্ছে!
তিন সপ্তাহ অপেক্ষার পরে ঘোষিত এই রায় শুধু শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নয়, তাদের পরিবারকেও চরম স্বস্তি দিয়েছে। প্রায় দু’বছর ধরে ঝুলে থাকা ভবিষ্যৎ অবশেষে স্পষ্ট হল। আদালতের সিদ্ধান্তে চাকরি বহাল থাকায় বহু পরিবার আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে আশা করছেন শিক্ষকরা।






