কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড রবিবার সকালে জমজমাট হয়ে উঠল বিশেষ এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কারণে। সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে দলে দলে মানুষ এসে জমা হচ্ছিলেন। শহরের ভিড়, ব্যস্ততা—সবকিছুকে ছাপিয়ে সেখানে যেন তৈরি হয় এক আলাদা পরিবেশ। চারদিকজুড়ে ভেসে আসছিল স্তোত্রপাঠের সুর, মানুষজনের মুখে ছিল একরাশ উচ্ছ্বাস আর শৃঙ্খলাবদ্ধ উত্তেজনা।
‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে’ গীতা পাঠের বিশেষ অনুষ্ঠান। আয়োজকদের দাবি, দেশের নানা প্রান্তের মানুষ এদিন অংশ নিয়েছেন এই অনুষ্ঠানে। এমনকি বিদেশ থেকেও কিছু গীতাপ্রেমীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। স্বামী প্রদীপ্তানন্দ বা কার্তিক মহারাজ জানান, এ বছরের গীতা জন্মজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে এই অনুষ্ঠান আরও বৃহৎ পরিসরে করা হয়েছে।
ব্রিগেডে তৈরি করা হয় তিনটি বিশাল মঞ্চ। মূল মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রায় দেড়শো সাধুসন্ত। অন্যান্য দুটি মঞ্চেও ছিলেন বহু সন্ন্যাসী ও ভক্ত। নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী জানান, এবছর গীতার জন্মজয়ন্তীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১২৬। দর্শকদের জন্য ২৫টি প্রবেশ পথ রাখা হয়, আর সবচেয়ে বড় কথা—এবার কোনওরকম নাম নথিভুক্ত করার প্রয়োজন ছিল না। যেই ইচ্ছা, প্রবেশ করতে পেরেছেন।
এমন বিরাট অনুষ্ঠানের জন্য ভিড় সামাল দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয় পূর্ব রেল। আগের দিনই একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৭ ডিসেম্বর শিয়ালদা ও হাওড়া শাখায় ২০টি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। শহরের রাস্তাতেও দেখা গিয়েছে ভক্তদের লম্বা লম্বা দল। কেউ বাসে, কেউ আবার মালবাহী ছোট গাড়িতে করেও ব্রিগেডের দিকে ছুটে আসছিলেন। অনেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে হেঁটেও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছেন।
আরও পড়ুনঃ Mamata banerjee: মোদির আগেই নদিয়ায় মমতার সভা! SIR ইস্যুতে মতুয়াদের উদ্দেশে কী বার্তা দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
ভারতের বিভিন্ন রাজ্য—অসম, ত্রিপুরা, দিল্লি, বিহার, ওড়িশা—সব জায়গা থেকেই মানুষ এসেছেন। পাশাপাশি নেপাল ও বাংলাদেশ থেকেও অতিথি এবং ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহে আয়োজিত, এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সম্পর্ক নেই। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত গীতা পাঠ চলেছে, এবং প্রতিটি মুহূর্তে ব্রিগেড চত্বর ভরে ছিল মানুষের শ্রদ্ধা, ভক্তি আর অসামান্য উৎসাহে।





