ভোটের মুখে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই তপ্ত। তার উপর সামান্য ঘটনাও বড় আকার নিচ্ছে মুহূর্তে। বিশেষ করে যেখানে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব উপস্থিত, সেখানে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ফাঁকফোকর থাকলে তা স্বাভাবিকভাবেই বড় বিতর্কের জন্ম দেয়। ভবানীপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই প্রশ্নকেই সামনে এনে দিয়েছে।
প্রথমদিকে ঘটনাটি শুধুমাত্র স্থানীয় উত্তেজনা হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। কিন্তু সময় গড়াতেই বিষয়টি গুরুত্ব পেতে শুরু করে। নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বদলি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই এবার সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হল ভবানীপুরের ঘটনার জেরে।
শনিবার একটি নির্দেশিকায় সাসপেন্ড করা হয়েছে চার পুলিশ আধিকারিককে। এর মধ্যে রয়েছেন সাউথ ডিভিশনের ডিসি-২ সিদ্ধার্থ দত্ত, আলিপুর থানার ওসি প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, অতিরিক্ত ওসি চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ট্রাফিক সার্জেন্ট সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। ভবানীপুরের যে অংশে এই ঘটনা ঘটেছিল, তা আলিপুর থানার অধীন হওয়ায় ওই থানার আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই মূলত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে আগে অনেক ক্ষেত্রেই সাসপেনশনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনায় শুধু গাফিলতির প্রশ্ন নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। কারণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে উত্তেজনা তৈরি হল এবং তা নিয়ন্ত্রণে কেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেল না, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুনঃ ৪৮ ঘণ্টা কেটে গেলেও স্বামীর খোঁজ মেলেনি! টলিউড পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়ের রহ’স্যজনক অন্তর্ধান প্রসঙ্গে, আবার কী জানালেন স্ত্রি মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়?
গত ২ এপ্রিল বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন রোড শো করে ভবানীপুরে পৌঁছন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর কনভয় যখন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির গলির সামনে পৌঁছয়, তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত সংঘর্ষের রূপ নেয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নিরাপত্তার স্বার্থে কনভয় থেকে নেমে ছোট গাড়িতে করে বাকি রাস্তা অতিক্রম করতে হয় শাহকে। এই ঘটনার পরেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, যার জেরেই শেষমেশ চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হল।





