সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল অনুষ্ঠানের হাত ধরে যে বিতর্কের সূত্রপাত, তা ধীরে ধীরে গড়িয়ে গিয়েছে প্রশাসনিক অস্বস্তির বড় পরিসরে। প্রথমে আলোচনায় ছিল স্টেডিয়ামের ক্ষয়ক্ষতি, আয়োজনের গাফিলতি আর নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—এই ঘটনা শুধুই মাঠ বা ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নবান্নের অন্দরমহলেও এখন বাড়ছে চাপ, কারণ তদন্তের অভিমুখ বদলে যাচ্ছে আরও গুরুত্বপূর্ণ দিকের দিকে।
এই পরিস্থিতিতে যুবভারতীকাণ্ডে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটের (SIT) নজরদারি আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সল্টলেক স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া ঘটনায় এবার মন্ত্রীরাও সিটের তদন্তের আওতায় আসছেন। ইতিমধ্যেই যাঁদের শোকজ করা হয়েছিল, তাঁদের জবাব জমা পড়েছে নবান্নে। সেই সমস্ত জবাব খুঁটিয়ে খতিয়ে দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, শুধু ঘটনার বর্ণনা নয়, দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে তদন্ত।
নবান্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত মূল কমিটি—প্রাক্তন বিচারপতি অসীম রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি—আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই তাদের দ্বিতীয় রিপোর্ট জমা দিতে চলেছে। এই রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে চার সদস্যের সিটের তদন্তই মূল ভিত্তি হবে। প্রয়োজনে সিট আরও আধিকারিক নিয়োগ করতে পারে, যদিও তদন্ত শেষ করার জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, এই নমনীয়তাই তদন্তকে আরও গভীর ও নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করবে।
এদিকে যুবভারতীতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে রাজ্যের পূর্ত দফতর। সিটের অনুমতি মিললেই স্টেডিয়ামের পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এ ধরনের বড় অনুষ্ঠানের জন্য রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট এসওপি (Standard Operating Procedure) রয়েছে। তবে এই ঘটনার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সেই এসওপি আরও কঠোর ও উন্নত করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : নাগরিকত্বের প্রশ্নে ফের উত্তাপ, এসআইআর আবহে তাহেরপুরে মোদীর সভা ঘিরে রাজনৈতিক কৌতূহল!
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে শীর্ষ পুলিশ কর্তা পীযূষ পান্ডের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল যুবভারতী স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে। সেই দলে ছিলেন জাভেদ শামিম, সুপ্রতীম সরকার ও মুরলীধর শর্মা। তাঁরা বিধাননগর কমিশনারেটেও যান এবং গোটা স্টেডিয়াম ঘুরে দেখেন। ইতিমধ্যেই ডিজিপি রাজীব কুমারকে শোকজ করা হয়েছে। একই দিনে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ছবি বিতর্কের জেরে নিজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেন, তাতে সম্মতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম থেকেই এই ঘটনায় অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসুকে ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, এমনকি তাঁদের গ্রেফতারির দাবিও তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সব মিলিয়ে, যুবভারতীকাণ্ড এখন আর শুধু একটি ইভেন্টের ব্যর্থতা নয়—এটি প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।





