বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ সাংবাদিক সমাজকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় সংবাদপত্র অফিস ঘিরে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা শুধু সাংবাদিকদের নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এই আবহেই এক শীর্ষ সরকারি কর্তাব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি ও ক্ষমাপ্রার্থা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে। ঢাকায় দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর অফিসে আচমকাই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা সংবাদপত্র দুটির অফিসে ভাঙচুর চালায় এবং সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ করে। সেই সময় বহু সাংবাদিক অফিসের ভেতরে আটকে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে অনেকেই ফোন করে সাহায্যের আবেদন জানান। ঠিক এই সময়েই সামনে আসেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শুক্রবার সকালে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে শফিকুল আলম প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমা চান। তিনি লেখেন, হামলার সময় আতঙ্কগ্রস্ত সাংবাদিক বন্ধুদের কাছ থেকে একের পর এক ফোন পেয়েছিলেন। কান্নায় ভেঙে পড়া কণ্ঠস্বর তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। একজন দায়িত্বশীল পদে থেকেও তিনি সময়মতো তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেননি—এই ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধেই তুলে নেন তিনি। বহু ফোন করে সাহায্য সংগঠিত করার চেষ্টা করলেও তা নির্ধারিত সময়ে পৌঁছায়নি বলেই স্বীকার করেছেন তিনি।
শফিকুল আলম আরও জানান, ভোর পাঁচটার দিকে তিনি ঘুমাতে যান এই আশ্বাস নিয়ে যে দ্য ডেইলি স্টারের ভেতরে আটকে পড়া সব সাংবাদিককে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ততক্ষণে দুই সংবাদপত্র অফিসেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেছে। তাঁর ভাষায়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে গণমাধ্যমের উপর সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ জনতার হামলা ও অগ্নিসংযোগের অন্যতম উদাহরণ। তিনি লেখেন, সাংবাদিকদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।
আরও পড়ুনঃ Messi Tour : Messi Tour-এর আড়ালে বড়সড় গাফিলতি? যুবভারতীকাণ্ডে সিটের তদন্তে এবার মন্ত্রীর নাম!
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শফিকুল আলম নিজেও একসময় দেশের পরিচিত সাংবাদিক ছিলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-র বাংলাদেশ ব্যুরো চিফ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। গত বছর ৫ অগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর বিশ্ববাসীর কাছে প্রথম পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনিই। সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই তিনি লেখেন—একজন সাবেক সাংবাদিক হিসেবে তিনি শুধু এটুকুই বলতে পারেন, “আমি দুঃখিত।” এই ক্ষমাপ্রার্থা শুধু ব্যক্তিগত অনুশোচনা নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার বার্তাও দিয়ে গেল বলে মনে করছেন অনেকে।





