নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে আবারও শিরোনামে উঠে এল উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত। নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে যখন প্রতিদিনই নতুন নতুন সংঘাতের ছবি সামনে আসছে, ঠিক তখনই এক স্লোগান ঘিরে তৈরি হওয়া অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা, আর স্বাভাবিকভাবেই নজর পড়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের অবস্থানেও।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দুপুরে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারাসাতের কাছারি ময়দানে একটি কর্মসূচি ছিল। সেই সভা শেষে তাঁর কনভয় যখন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দফতরের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, তখন রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন ব্যক্তি ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলেন বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কাছাকাছি থাকা তৃণমূলের মহিলা কর্মীদের একাংশ ওই দু’জনকে ঘিরে ধরেন।
এরপর যা ঘটে, তা ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে চড়-থাপ্পড় মারা হয়। এলাকায় শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি, ভিড় জমে যায় চারপাশে। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, পরিস্থিতি এতটাই উত্তাল হয়ে ওঠে যে সাধারণ মানুষও কিছুক্ষণ আতঙ্কে পড়ে যান। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে টানাটানি করছেন কয়েকজন মহিলা কর্মী।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে স্পষ্ট, বচসার মধ্যেই এক মহিলা ওই ব্যক্তির চুলের মুঠি ধরে চড় মারছেন। অভিযোগ, শুধু মারধরই নয়, তাঁদের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের বদলে ‘জয় বাংলা’ বলতে বাধ্য করা হয়। যদিও তৃণমূল কর্মীদের পাল্টা দাবি, ইচ্ছাকৃত ভাবে উত্তেজনা ছড়াতেই ওই দু’জন স্লোগান তুলেছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়েই এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় বলে তাঁদের বক্তব্য।
আরও পড়ুনঃ Kolkata Police: ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে কলকাতায় নিরাপত্তা তদারকি, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বৈঠক!
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে রাজ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিপন্ন, আর এই ধরনের ঘটনাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে শাসক দলের অস্বস্তি বাড়াবে। অন্যদিকে, রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ স্পষ্ট করেছেন, এই ধরনের আচরণ তৃণমূলের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, তিনি বর্তমানে দলের সংগঠনিক রণকৌশল এবং SIR ইস্যুতে একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠক নিয়েই ব্যস্ত, যেখানে লক্ষাধিক দলীয় পদাধিকারীর উপস্থিত থাকার কথা। সব মিলিয়ে, বারাসাতের এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।





