দীর্ঘদিনের সম্পর্কে বিশ্বাস, আবেগ আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন—এই তিনটি শব্দেই অনেক সময় গড়ে ওঠে দু’জন মানুষের জীবন। কিন্তু সেই সম্পর্ক যদি আইনি বিয়ের গণ্ডিতে না আসে, তা হলে কি কোনও সুরক্ষা থাকে না? সমাজে এমন প্রশ্ন বহুদিনের। সম্প্রতি বম্বে হাই কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সেই প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে এনে দিল। দীর্ঘদিনের সহবাস এবং সন্তানের জন্ম—এই দুই বিষয় যে আইনের চোখে নিছক সম্পর্ক নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত।
মামলার সূত্রপাত এক তরুণী ও এক যুবকের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ককে ঘিরে। প্রেমের সম্পর্ক থেকে সহবাস, এবং তার ফলেই জন্ম নেয় তাঁদের কন্যাসন্তান। তবে সম্পর্কের এই পর্যায়ে এসে দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন যুবক। তরুণী ও সন্তানের খরচ বহন করা তো দূরের কথা, পরে তিনি অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেন। আইনত বিয়ে না হওয়ায় সঙ্গিনী বা সন্তানের কোনও দায় নেই—এই যুক্তিতেই তরুণীকে একপ্রকার একা ফেলে দেন যুবক।
এরপরই বিষয়টি আদালতের দ্বারস্থ হয়। তরুণীর অভিযোগ ছিল, শুধু সন্তান জন্মই নয়, এর আগেও তিনি একবার অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন এবং তখন তাঁকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরে কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও যুবক তাঁদের ত্যাগ করেন। বর্তমানে শিশুটির বয়স মাত্র আট মাস। এই প্রেক্ষিতেই তরুণী গার্হস্থ্য হিংসা আইনে মামলা দায়ের করেন। নিম্ন আদালত পরিস্থিতি বিচার করে যুবককে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়—মাসে পাঁচ হাজার টাকা তরুণীর জন্য এবং দু’হাজার টাকা সন্তানের জন্য।
এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে যুবক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বম্বে হাই কোর্টে আবেদন করেন। অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি ছিল, সপ্তাহান্তে একসঙ্গে সময় কাটানো বা সহবাস কোনও ভাবেই গার্হস্থ্য সম্পর্কের মধ্যে পড়ে না। পাল্টা মামলাকারীর আইনজীবী জানান, দীর্ঘ সহবাস এবং সন্তানের উপস্থিতি এই সম্পর্ককে ‘বিবাহের মতো সম্পর্ক’-এর পর্যায়ে নিয়ে যায়, ফলে গার্হস্থ্য হিংসা আইন প্রযোজ্য।
আরও পড়ুনঃ US Iran : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ছায়া? মার্কিন নৌবহর মোতায়েনের ইঙ্গিতে যে কোনও হামলাতেই পাল্টা আঘাতের বার্তা ইরানের!
বিচারপতি এম এম নেরলিকারের বেঞ্চ উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর স্পষ্ট জানায়, দীর্ঘদিনের সহবাস, সম্পর্কের স্থায়িত্ব এবং সন্তানের জন্ম—এই সব মিলিয়ে আইনত বিবাহ না হলেও সঙ্গিনী স্ত্রীর মতোই সুরক্ষা পাবেন। সুপ্রিম কোর্টের আগের পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করে আদালত জানায়, অন্য কাউকে বিয়ে করে দায়িত্ব এড়ানো যায় না। যদিও অভিযুক্তের মা ও বর্তমান স্ত্রীকে মামলাটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তবুও যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করা হয়নি। এই রায় আবারও মনে করিয়ে দিল—সম্পর্ক শুধু কাগজে নয়, দায়িত্বেও বাঁধা।





