Anandapur Fire Burst: আনন্দপুরের আগুনে মৃত্যু-নিখোঁজের ছায়া, অনুমতি ছাড়াই চলছিল কারখানা! ডিজির কথায় নতুন বিতর্ক!

নাজিরাবাদের শিল্পাঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এখন শুধুই একটি দুর্ঘটনার খবর নয়, তা পরিণত হচ্ছে একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের কেন্দ্রে। টানা একদিনের বেশি সময় ধরে জ্বলতে থাকা শুকনো খাবারের কারখানাটি যেন এক মুহূর্তে বদলে দিয়েছে বহু পরিবারের ভবিষ্যৎ। ধোঁয়ায় ঢাকা এলাকা, পোড়া গন্ধ আর আতঙ্ক—এই সবকিছু মিলিয়ে গোটা আনন্দপুর অঞ্চল এখনও কার্যত স্তব্ধ। বাইরে থেকে দেখলে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ঘটনার পর প্রায় ৩২ ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর মঙ্গলবার বেলা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলের ডিজি রণবীর কুমার। ততক্ষণে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নিভে যায়নি। কারখানার ভেতরের কিছু অংশে এখনও পকেট ফায়ার বা ধিকিধিকি আগুন দেখা যাচ্ছিল, যা দমকল কর্মীরা বারবার জল ছিটিয়ে সামাল দিচ্ছিলেন। কারখানার একাংশ ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়েছে, ফলে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। দমকল সূত্রে অনুমান, অতিরিক্ত দাহ্য পদার্থ মজুত থাকার কারণেই আগুন এত দ্রুত ও ভয়াবহ আকার নিয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত আটজন কর্মীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, এখনও খোঁজ মেলেনি ২৫ জনের বেশি কর্মীর। ঘটনার দিন রাতে তাঁরা কারখানার ভেতরেই ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও দেহ আটকে থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না উদ্ধারকারীরা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে দমকল কর্মীরাও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধাপে ধাপে কাজ করছেন, যাতে নতুন করে কোনও বিপদ না ঘটে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডিজি রণবীর কুমার স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেন, এই কারখানার ক্ষেত্রে নজরদারির ঘাটতি ছিল। তিনি জানান, কারখানাটির জন্য দমকল দফতরের কোনও বৈধ অনুমতি ছিল না এবং একাধিক আইন লঙ্ঘন হয়েছে। তাঁর কথায়, “সব দিকেই নজরদারি থাকে, কিন্তু কোনও কারণে এই দিকটা নজর এড়িয়ে গিয়েছিল।” এই স্বীকারোক্তি স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আরও পড়ুনঃ US China message to India : ভারতকে ‘বন্ধু ও ভালো প্রতিবেশী’ বলল চিন, তার পরই ২৬ জানুয়ারিতে আমেরিকার শুভেচ্ছা—কী বার্তা দিচ্ছে বিশ্বশক্তি?

এদিকে তদন্ত আরও জোরদার হচ্ছে। মঙ্গলবারই ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কথা ফরেনসিক দলের। নিখোঁজ কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে এমআর বাঙুর হাসপাতালে। সেই নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলবে, এরপর ময়নাতদন্ত হবে কাঁটাপুকুর মর্গে। ঘটনার পর থেকেই কারখানার মালিক ও শ্রমিক ঠিকাদারদের ফোন বন্ধ, তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। দমকলের তরফেও জানানো হয়েছে, দায়ীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে। যত সময় যাচ্ছে স্পষ্ট হচ্ছে, এই আগুন শুধু একটি কারখানাই নয়, গোটা ব্যবস্থার ফাঁকফোকরকেও নগ্ন করে দিয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles