নামী বিরিয়ানির দোকান অনির্বাণ বিরিয়ানির পরিচিত মুখ—এই সব মিলিয়েই অনির্বাণ দাসের নাম এতদিন ছিল পরিচিতির শীর্ষে। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই পরিচিত নাম উঠে এল থানার খাতায়। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, সন্দেহ আর অভিযোগে এমন এক পারিবারিক কেচ্ছা প্রকাশ্যে এল, যা নিয়ে এখন ব্যারাকপুর জুড়ে চর্চা। বিরিয়ানির গন্ধ ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে দাম্পত্য কলহ, বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আর পাল্টা নির্যাতনের দাবি।
ঘটনার সূত্রপাত অনির্বাণ দাসের অভিযোগ থেকে। তাঁর দাবি, তাঁদেরই গাড়ির চালক সমীর সেন তাঁর স্ত্রী শ্রমণা দাসকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে পালিয়েছিল। শুধু তাই নয়, দিঘা ও পুরী ঘুরে স্ত্রীকে নিয়ে মুম্বই পালানোর ছকও কষা হয়েছিল বলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রথমে পুলিশ গ্রেফতার করে চালক সমীর সেনকে। এই পর্যায় পর্যন্ত ঘটনাটি ছিল মূলত ‘ড্রাইভারের সঙ্গে পালানো’ সংক্রান্ত অভিযোগে সীমাবদ্ধ।
কিন্তু তদন্ত এগোতেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে। পুলিশের কাছে হাজির হয়ে শ্রমণা দাস সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, গত ১৭ বছর ধরে স্বামীর হাতে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার। দীর্ঘদিন সহ্য করার পর সম্প্রতি মারধরের জেরে তাঁর হাত ভেঙে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শ্রমণার বক্তব্য, সেই কারণেই তিনি স্বামীর সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ড্রাইভারের সঙ্গে পালানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
শ্রমণার আরও দাবি, থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েও পুলিশের সামনেই তাঁর চুলের মুঠি ধরে মারধর করেন অনির্বাণ দাস। পুলিশের হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই বউ-পেটানোর অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ অনির্বাণ দাসকেও গ্রেফতার করে। ফলে একদিকে চালক, অন্যদিকে বিরিয়ানির দোকানের মালিক—দু’জনই এখন পুলিশি হেফাজতে।
আরও পড়ুনঃ আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রাজনৈতিক তরজার মাঝেই মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে সাহায্যের ঘোষণা মোদীর!
অন্যদিকে অনির্বাণ দাসের পাল্টা দাবি, স্ত্রী পরিবারের সোনা নিয়ে ড্রাইভারের সঙ্গে মুম্বই পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। তিনি নাকি গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিমানবন্দরের আগেই তাদের আটকান। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন শ্রমণা। তাঁর বক্তব্য, নিজের বাবার দেওয়া গয়নার উপর তাঁর পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং দিঘা বা পুরী যাওয়া কোনও অপরাধ নয়। পুলিশ জানিয়েছে, দু’পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ধৃতদের আদালতে তোলা হয়েছে।





