শহরের রাত কখন যে দুঃস্বপ্নে বদলে যায়, তা অনেক সময় বোঝার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। আনন্দপুরের ঘটনাও ঠিক তেমনই। গভীর রাতে আচমকা আগুন, চারদিকে ধোঁয়া আর আর্তনাদ—এক মুহূর্তে থমকে যায় স্বাভাবিক জীবন। ঘুম ভেঙে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, কেউ প্রিয়জনকে খোঁজে, কেউ শুধু অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকে আগুনের লেলিহান শিখার দিকে। ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে শুধু শোক আর প্রশ্ন—কীভাবে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটল, আর এর দায় কার?
রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের একটি গুদামে আগুন লাগে। প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চললেও পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ আকার নেয়। চারদিনের চেষ্টায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয়েছে অন্তত ২৫ জনের দেহাংশ। তবে এখনও পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। এই অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে গ্রেফতার করে ডেকরেটিং গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি প্রশ্ন—ঘটনাস্থলের সঙ্গে যুক্ত মোমো কোম্পানির ভূমিকা নিয়েও উঠতে শুরু করে জোরালো দাবি।
দু’দিন পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। অবশেষে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ মোমো কোম্পানির দুই আধিকারিককে গ্রেফতার করে। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করেও শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। এদিন আনন্দপুরে মিছিল করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মৃতদের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ, সরকারি চাকরির দাবি তোলেন। পাশাপাশি, মোমো কোম্পানির মালিককে কেন এখনও গ্রেফতার করা হয়নি, তা নিয়েও সরব হন তিনি।
এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডলে আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। একইসঙ্গে ঘোষণা করেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এছাড়াও, অগ্নিকাণ্ডে জখমদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথাও জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ Suicide*Case : ‘বাঁদরের মতো দেখতে’ মন্তব্যেই শেষ পরিণতি! স্বামীর মশকরায় আত্মঘা*তী মডেল হওয়ার স্বপ্ন দেখা স্ত্রী!
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, এই আর্থিক সহায়তা শোকাহত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর এক দৃঢ় মানবিক বার্তা। তাঁর কথায়, কঠিন সময়ে এই সাহায্য মানসিক ও সামাজিক শক্তি জোগাবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, প্রত্যেক মৃতের পরিবারের একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হবে। আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড ঘিরে তাই এখন শুধু তদন্ত নয়, মানবিক সহায়তা ও দায়বদ্ধতা নিয়েও চলছে তীব্র আলোচনা।





