আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (RG KAR medical College) ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে যে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে চর্চা চলছে, তা ফের নতুন মোড় নিল। প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক নাম উঠে আসলেও, এবার আদালতের কড়া অবস্থানে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন হাসপাতালের প্রাক্তন এক শীর্ষ আধিকারিক। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে এই মামলার জটিলতা এবং তার গভীরতা। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত কারা আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন।
এই আবহেই আর জি কর হাসপাতালের দুর্নীতিকাণ্ডে প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলিকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে সিবিআই-এর বিশেষ আদালত। আদালতের নির্দেশে তাঁর নামে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, একাধিকবার তলব করা সত্ত্বেও বুধবারও আদালতে হাজিরা দেননি আখতার আলি। তাঁর তরফে জানানো হয়, তিনি অসুস্থ এবং বর্তমানে একটি নার্সিংহোমে ভর্তি। যদিও আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবেই তিনি হাজিরা এড়িয়ে চলছেন বলে তাদের প্রাথমিক ধারণা।
এই প্রথম নয়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসেও আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত আখতার আলিকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছিল। সেদিন আদালত জানিয়ে দেয়, নির্দিষ্ট দিনে হাজিরা না দিলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে। সেই সময়েও আদালতের কড়া ধমকের মুখে পড়েও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, আর জি কর মেডিক্যালের দুর্নীতির মামলায় সিবিআই যে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিয়েছে, তাতে অভিযুক্তদের তালিকায় স্পষ্টভাবে নাম রয়েছে আখতার আলির। যদিও চার্জশিটে নাম ওঠার পর তিনি দাবি করেছিলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বর মাসেই দুর্নীতির অভিযোগে আখতার আলিকে সাসপেন্ড করে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, বিভিন্ন সংস্থাকে সরঞ্জাম সরবরাহের বরাত পাইয়ে দেওয়ার বদলে তিনি আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। ইস্তফা দেওয়ার আবেদন করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের জন্য বিমানের টিকিট কাটা, স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা নেওয়া এবং একাধিক সংস্থা থেকে একাধিকবার সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ৪ কোটি ১৪ লক্ষ টাকার বরাত পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও।
আরও পড়ুনঃ India-GCC Trade Talk : পশ্চিম এশিয়ায় বাণিজ্যের নতুন দরজা! জিসিসি-র ছ’টি দেশের সঙ্গে চুক্তির পথে ভারত!
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রথম তুলেছিলেন এই আখতার আলিই। সেই অভিযোগের জেরেই সন্দীপ ঘোষ গ্রেফতার হন বলে জানা যায়। একসময় নিজেকে হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে তুলে ধরা আখতার আলির বিরুদ্ধেই এবার একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। আদালতের নির্দেশের পর এখন নজর, কবে এবং কীভাবে তাঁকে গ্রেফতার করে তদন্তকারী সংস্থা, আর এই মামলায় সামনে আসে আরও কত নাম।






