নিজের বাড়িই একসময় যখন হয়ে ওঠে আতঙ্কের জায়গা তখন সেটা স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তার বিষয়। যে ছেলের হাত ধরে হাঁটতে শিখেছিলেন, সেই ছেলের কাছেই দিনের পর দিন নিঃশব্দে সহ্য করতে হয়েছে নির্যাতন। মালদার ইংরেজবাজারের একটি আবাসিক এলাকা থেকে উঠে আসা এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে পারিবারিক নিরাপত্তা ও বৃদ্ধাদের সুরক্ষা নিয়ে। দীর্ঘদিন মুখ বুজে সহ্য করার পর অবশেষে থানার দ্বারস্থ হলেন এক প্রৌঢ়া মা।
ঘটনাটি ইংরেজবাজার থানার নয়ঘর কলোনির বাগানপাড়া এলাকার। পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার নাম ফুলকুমারী মল্লিক (৫৭)। স্বামী পরিমল মল্লিক ভিন রাজ্যে কর্মসূত্রে থাকেন। বাড়িতে ছেলে বিক্রম মল্লিক ও বৌমা উত্তরা মল্লিকের সঙ্গে থাকতেন ফুলকুমারী। প্রথমদিকে পারিবারিক অশান্তি তেমন চোখে পড়েনি। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে, অভিযোগ পরিবারেরই সদস্যদের বিরুদ্ধে।
পরিবার ও আত্মীয়দের দাবি, কয়েক দিন আগে ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন ওই বাড়িতে এসে ওঠার পর থেকেই অশান্তি চরমে পৌঁছয়। অভিযোগ, শ্বশুর-শাশুড়িকে স্থায়ীভাবে বাড়িতে রাখার পরিকল্পনা করেই ফুলকুমারীর উপর চাপ বাড়তে থাকে। প্রায় প্রতিদিন মারধর, গরম জল ঢেলে দেওয়া, এমনকি গরম খুন্তির ছেঁকা দেওয়ার মতো অমানবিক নির্যাতন চলছিল। কখনও মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এই সমস্ত অত্যাচার দীর্ঘদিন সহ্য করলেও মুখ খুলতে পারেননি তিনি।
নির্যাতিতার বোন প্রতিমা শেঠ জানান, গত দু’দিন ধরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় ফুলকুমারীকে। অভিযোগ, সেই সময় ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আত্মীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফুলকুমারীকে ভর্তি করা হয় মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
আরও পড়ুনঃ Pakistan Occupied Kashmir: ট্রেড চুক্তির পর ভারত আরও শক্তিশালী, নতুন মানচিত্রে জম্মু কাশ্মীর ও আকসাই চিন ভারতীয় ভূখণ্ড হিসেবে দেখালো আমেরিকা!
হাসপাতাল থেকেই ফুলকুমারী জানান, সম্পত্তির দখল নেওয়াই ছিল এই নির্যাতনের মূল উদ্দেশ্য। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের উসকানিতেই ছেলে তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়াতে চাইছিল বলে অভিযোগ। তিনি বলেন, স্বামী বাইরে থাকায় পুরো বিষয়টি জানতেন না। পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি নিজের অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি করেছেন। যদিও অভিযুক্ত ছেলে ও বৌমা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন, তাঁরাই নাকি আক্রান্ত। পুলিশ জানিয়েছে, ছেলে-বৌমা-সহ চার জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক কিন্তু তদন্ত চলছে।





