দলবদল মানেই নতুন সমীকরণ, নতুন বার্তা। কিন্তু কখনও কখনও সেই যোগদান অনুষ্ঠানই হয়ে ওঠে অস্বস্তির কারণ। পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে ঠিক তেমনই এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সদ্য দলবদল করে শাসকদলে যোগ দেওয়া এক নেতার বক্তব্য ঘিরে এখন জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিশেষ করে জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar Scheme) নিয়ে ওঠা মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্কের আবহ।
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার দাপুটে নেতা চন্দন মণ্ডল সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস-এ যোগ দেন। যোগদান মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। সেখানেই চন্দনবাবু প্রকাশ্যে দাবি করেন, ময়নায় বহু মহিলার ৫ থেকে ৬ মাসের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা এখনও বকেয়া। তাঁর কথায়, এই প্রকল্প অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহু পরিবার মাসিক খরচের জন্য এর উপর নির্ভরশীল। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে চিঠিও দিয়েছিলেন এবং আশ্বাসও পেয়েছেন, তবে এখনও সম্পূর্ণ সমস্যার সমাধান হয়নি।
চন্দনের বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়ে শাসক শিবির। যদিও দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, কিছু ডিপার্টমেন্টাল টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় টাকা পৌঁছতে দেরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনও রাজনৈতিক বৈষম্যের ফল নয়। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে সাময়িক বিলম্ব হয়েছে মাত্র।
এ প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে রাজনৈতিক ভাগাভাগির কোনও প্রশ্নই নেই। তাঁর কথায়, গোটা বাংলা জানে এই প্রকল্পে দলমত নির্বিশেষে মহিলারা সুবিধা পান। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় আবেদনপত্র ঠিকভাবে জমা পড়েছে কিনা বা দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পে অংশ নেওয়া হয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
আরও পড়ুনঃ WB Govt: ২ হাজার তথ্য অনুপস্থিত, ৫০০ জনের দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন—নির্বাচন ঘিরে ফের চাপে রাজ্য সরকার!
দলবদলের পরই এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে। একদিকে বিরোধীরা এই ইস্যুতে সরব হওয়ার সুযোগ খুঁজছে, অন্যদিকে শাসকদল প্রশাসনিক ব্যাখ্যায় পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে। তবে মূল প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ময়নার সমস্ত উপভোক্তা কবে পুরো বকেয়া অর্থ পাবেন? এখন সেই উত্তরেই নজর সাধারণ মানুষের।





