বারাসতের আদালতে ইতিমধ্যেই চরম ব্যস্ততা দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ যাঁরা ন্যায় প্রক্রিয়ায় জড়িত, তাঁরা আদালতের ভেতরে প্রবেশ করে দেখছেন, কোর্টরুমগুলো স্তব্ধ, আর বিচারকরা তাদের মামলার শুনানি করার জন্য অনুপস্থিত। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতি আইনজীবী এবং সাক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে। মামলা চলাকালীন অনেকেই আবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন, কারণ বিচারক নেই।
এই পরিস্থিতির মূল কারণ হলো SIR কাজ। বর্তমানে ১৫ জন আদালতের মধ্যে ৮ জন অতিরিক্ত ডিস্ট্রিক্ট জজ SIR-এর কাজের জন্য ব্যস্ত রয়েছেন। মানে বাকি ৬ জন বিচারককে ১৫ টি আদালতের কক্ষ সামলাতে হচ্ছে। আদালতের ঘরে আদালতের মামলার শুনানি প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। আইনজীবীরা বলছেন, অনেক মামলার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে, আবার কারও সাক্ষী আজকের জন্য আদালতে হাজির হলেও শুনানি হচ্ছে না।
পাবলিক প্রসিকিউটর বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী জানান, “নির্দিষ্ট করে বলা যায়, অন্তত ৯ মার্চ পর্যন্ত এই সমস্যা চলতেই পারে। কিছু মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও বিচারকরা SIR-এর কাজের কারণে অনুপস্থিত থাকায় সমস্ত মামলা সমস্যায় পড়ছে। সাক্ষীরা এসে ফিরে যাচ্ছেন।” তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং আইনজীবীদের জন্যও চিন্তার কারণ হচ্ছে।
অ্যাডিশন্যাল ডিস্ট্রিক্ট পিপি শ্যামলকান্তি দত্ত আরও জানান, “১৪টি নিম্ন আদালতের ADJ-রা SIR-এর কাজে নিয়োজিত। ট্র্যাক কোর্ট চললেও, তাদের নিজস্ব মামলা এবং SIR-এর জন্য নির্ধারিত কাজ একসাথে সামলাতে হচ্ছে। ফলত অনেক মামলার শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছে, বেল ছাড়া কিছুই হচ্ছে না। সাক্ষীরা আসছে, কিন্তু শুনানি হচ্ছে না। সমস্যাটা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।”
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : ‘এনজিও না ব্যক্তিগত অর্থ?’ ৫১ ক্লাব অনুদান ইস্যুতে আয়কর দফতরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর! চাপে তৃণমূল সাংসদ!
এভাবে চললে আদালতের সিস্টেমে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। আইনজীবী, সাক্ষী এবং মামলা চলাচলের জন্য সাধারণ মানুষ সকলেই এখন উদ্বিগ্ন। আদালতগুলি আবার স্বাভাবিকভাবে কবে কাজ শুরু করবে তা স্পষ্ট নয়। SIR-এর কাজ শেষ হওয়ার পরই বিচারকরা আদালতে ফিরে আসবেন এবং মামলার শুনানি চলবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রতিটি মামলার জন্য আইনজীবীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার