বিধানসভা নির্বাচনের আগে‌ই নীতীশের সঙ্গ ছাড়ার ইঙ্গিত বিজেপির! পাল্টাতে চলেছে বিহারের রাজনীতির ছবি!

করোনা আবহে সমীকরণ বদলাচ্ছে বিহারের রাজনীতি। ২০২০ বিধানসভা বিধানসভা নির্বাচনের আগে নীতীশের সঙ্গ ছাড়তে পারে বিজেপি! এমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে। ইতিমধ্যেই নাকি সেই মর্মে ঘুঁটি সাজানোও শুরু করে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব!

করোনা সঙ্কট কাটিয়ে উঠলেই বিহারে বাজবে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা। ২০২০ নভেম্বর মাসে হতে পারে নির্বাচন। যদিও অনেক আগে থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল শাসক বিজেপি-জেডইউ জোট। ২০১৯ এর শেষে বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে নীতীশ কুমারকে‌ই মুখ্যমন্ত্রী করে এগোতে চান তাঁরা। এর পিছনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল, ‘জঙ্গল রাজ’ থেকে মুক্তি দিয়ে বিহারকে ভারতের উন্নয়ন ও প্রশাসনের মানচিত্রে ফিরিয়ে দেওয়া ‘ব্রান্ড নীতীশ কুমারে’র স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। তাছাড়া, বিজেপি জোট ভেঙে দিলে নীতীশ কুমার ফের লালু যাদবের আরজেডির সাথে জোট ফিরে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সেই সময় ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব জয়ের পরেও, দিল্লি, ঝাড়খণ্ড এবং মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্য নির্বাচনে বিজেপি অপ্রত্যাশিত ধাক্কা খেয়েছিল। তাই ২০১৫ সালের একলা চলার ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায়নি।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতি নতুন করে হিসাব বদলে দিয়েছে। কারণ, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতীশ কুমারের ব্র্যান্ড পুরোদস্তুর ধাক্কা খেয়েছে। অন্যান্য কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তুলনাতেই আসছেন না নীতিশ। অন্যদিকে চিন্তার কারণ হচ্ছে করোনা পরবর্তী বিহারে বেকারত্ব সমস্যা বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। কারণ করোনা প্রাদুর্ভাবের আগেই বিহার ১০ শতাংশের বেশি বেকারত্বের সমস্যায় ভুগছিল। সর্বশেষ সিএমআইই তথ্য বলছে, জাতীয় চাকরি হারের হার এখন ২৩.৯১ শতাংশে। বর্তমান এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে ১০ লক্ষেরও বেশি অভিবাসী বিহারে ফিরে যাবেন। আর তা হলে বেকারত্ব আরও প্রকট হবে। যা বিহারে বিরাট দুর্দশা তৈরি করতে বাধ্য। এর পাশাপাশি নীতিশ কুমারের ব্যক্তিগত প্রকল্প হিসাবে দেখা বহুল প্রচারিত নিষিদ্ধকরণ বাস্তবায়নের ব্যর্থতা কেবল কৌতুকের বিষয় হয়ে উঠেনি, বরং একটি ক্রমবর্ধমান কালো অর্থনীতি এবং দুর্নীতিকে জন্ম দিয়েছে। যা বিহারের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া মুজাফফরপুরে অ্যাকিউট এনসেফালাইটিস সিন্ড্রোমের (এইএস) কারণে ১০০ জনেরও বেশি শিশু মারা যাওয়ার ঘটনা এবং মেয়েদের হোমে ধর্ষণের ঘটনা জনসাধারণের স্মৃতিতে এখনও যথেষ্ট তাজা। আর এই সমস্ত ব্যার্থতাকে কাজে লাগাতে পারলে জয় সহজ হয়ে যাবে।

তবে অবশ্যই তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সমীকরণও। বিজেপি সেদিকেও হিসেব কষা শুরু করেছে। এই মুহূর্তে বিহারে বিরোধী শক্তি বলতে কিছু নেই। তেজশ্বী যাদব এবং আরজেডি-নেতৃত্বাধীন মহাগাঁটবন্ধন নড়বড়ে হয়ে গেছে। ২০১৯ সালের সংসদ নির্বাচনে আরজেডি একটিও লোকসভা আসন না পাওয়ায় তেজস্বী বিহারের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে প্রায় অদৃশ্য হয়ে পড়েছেন। তাঁর নামে একাধিক জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি লালু যাদব পরিবারেও চলছে পারিবারিক কলহ। আর লালু নিজেও খুব অসুস্থ। তাই এই মুুুুহূর্তে তাঁদের পক্ষে ঘুুুুরে দাড়ানোর কোনও সম্ভবনা নেই। এছাড়া কংগ্রেস বা অন্যান্য দলের ভোট ব্যাঙ্ক বিশাল কিছু নয়, যা জেডইউ সঙ্গে জোট হলে বিজেপির চাপের কারণ হতে পারে।

করোনা আবহে এই সমস্ত অঙ্ক কষে নির্বাচনের মাত্র দু’মাস আগে‌ও নীতীশ কুমারের সঙ্গে জোট ভেঙে দিতে পারে বিজেপি। এতে বিরোধী জোট বা জেডইউ উভয়েই চ্যালেঞ্জের মুুখে পড়়ে যাবে। আর নতুন করে তাঁদের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য জোট তৈরী করাও সম্ভব হবে না।

RELATED Articles

Leave a Comment