আত্মনির্ভর ভারত তৈরীর জন্য ২০ লক্ষ কোটির বিশাল অঙ্কের আর্থিক প্যাকেজের মূল্যায়নের আজ চতুর্থ দিন ছিল। এই দিন ফের সাংবাদিকদের মুখোমুখি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। গত তিন দিন বিভিন্ন ক্ষেত্রকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। আজ শনিবার পর্যটন, বিমান, হোটেল ব্যবসা-সহ একাধিক ক্ষেত্রকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষনা করলেন। গত কয়েক মাসে বিনিয়োগে সমস্যা কাটাতে বিশেষ সচিবগোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে। বিবিধ ক্ষেত্রকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার জন্য টানা চতুর্থ দিন ধরে প্যাকেজ ঘোষণা করে চলেছেন নির্মলা।
তিনি জানান শিল্প পরিকাঠামোতে বেশি জোর দেওয়া হবে, বক্সাইট ও কয়লা প্রচুর পরিমাণে উত্পাদন করা হবে। কয়লা খননকেও এবার বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কয়লা ক্ষেত্রে এতদিন সরকারেরই একাধিপত্ব ছিল। সেই বিধিনিষেধ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট রাজস্বের বিনিময়ে এই সুযোগ পাবে বেসরকারি সংস্থাগুলি। কয়লা খননের জন্য এবার থেকে নিলামেও অংশ নিতে পারবে বেসরকারি সংস্থাগুলি। কোল ইন্ডিয়ার অধীনে থাকা যে কয়লা খনিগুলির সম্পূর্ণ খনন হয়নি, সেগুলিকেও ফের নিলামে তোলা হবে। ৫০টি নতুন কয়লা ব্লক খুব শিগগিরই নিলামের জন্য তুলবে সরকার। এ দিন এ কথাই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।
বিদ্যুৎবণ্টন সংস্থা বা ডিসকমগুলি বেসরকারি হাতে দেওয়া হচ্ছে, ফলে গ্রাহকরা পাবেন অনেক ভাল পরিষেবা।
উড়ান সারাই ও উড়ান রাখার হাব তৈরি হবে ভারতে, এখনও পর্যন্ত দেশে এরকম কোনও হাব নেই। ৬টি বিমানবন্দর বেসরকারি হাতে দেওয়া হবে। আপাতত ১২টি বিমানবন্দর বেসরকারি সংস্থা চালাচ্ছে। আকাশপথের আরও উন্নত ব্যবহার, উড়ানের সময় কমানো হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ৪৯ শতাংশ থেকে ৭৪ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সেনাবাহিনীর জন্য নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র দেশেই তৈরি করতে হবে। এই অস্ত্র বাইরে থেকে আমদানি করা যাবে না, এমনটাই জানিয়েছেন সীতারমন।
অ্যালুমিনিয়াম শিল্পের ক্ষেত্রেও দেওয়া হবে অর্থসাহায্য। বিদেশের ওপর কম নির্ভরশীল হওয়ার কথা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক।
অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টারিতে কর্পোরেট কালচার আনা হচ্ছে, তবে তা বেসরকারি হাতে দেওয়া এখনই হচ্ছে না। তবে সংস্থার শেয়ার আমজনতার হাতে দেওয়া হবে। বিদেশ থেকে সমরাস্ত্র আমদানি নয়, দেশের তৈরি সমরাস্ত্র কিনবে সরকার। বিদেশে বিনিয়োগ ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়পত্র। অস্ত্র উত্পাদনে দেশের সংস্থাগুলিকে উত্সাহ দেওয়া হবে।
বিমান পরিবহণ শিল্পে বেশি বিনিয়োগ। পিপিপি ৬ বিমানবন্দরের সংস্কারের কোথাও ঘোষণা করা হয় এই প্যাকেজে। বিমানবন্দরের নিলাম হবে, বেসরকারিকরণ করা হবে। ভারতীয় আকাশসীমাকে যতবেশি সম্ভব ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিমানের যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আগে বিদেশে পাঠানো হত, এবার তা ভারতেই হবে। এর ফলে চাকরির ক্ষেত্রও আরও বৃহত্তর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





