Mamata Banerjee on Gas price Hike : ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের প্রভাব পড়ল দেশে! রান্নার গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বৃদ্ধি, রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

দেশের গৃহস্থালির বাজেটে নতুন করে চাপ পড়েছে। মাত্র এক লাফে ৬০ টাকা বেড়ে গেল রান্নার গ্যাসের দাম। চলতি সপ্তাহে এই পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে ওঠেছে ইরান–ইজরায়েল যুদ্ধের আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা। সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে, শুধু আন্তর্জাতিক অস্থিরতা নয়, দেশের বাজারও এতে প্রভাবিত হয়েছে। বাজারের অস্থিরতা এবং সরবরাহের ব্যাঘাতের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

প্রথমে গৃহস্থালির এলপিজি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ডবল সিলিন্ডারের পরিবর্তে এখন কেবল এক সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে দাম নির্ধারণে। শনিবার থেকে গৃহস্থালির গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে ৬০ টাকা। শুধু ঘরোয়া এলপিজি নয়, বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। গৃহস্থালির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে ৬০ টাকা এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ১১৫ টাকা করে বেশি দিতে হবে। দিল্লিতে ১৪.২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ৯১৩ টাকা, মুম্বইতে ৯১২.৫০ টাকা, কলকাতায় ৯৩০ টাকা এবং চেন্নাইয়ে ৯২৮.৫০ টাকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম দিল্লিতে ১,৮৮৩ টাকা, মুম্বইয়ে ১,৮৩৫ টাকা, কলকাতায় ১,৯৯০ টাকা এবং চেন্নাইয়ে ২,০৪৩.৫০ টাকা হয়েছে। ফলে হোটেল, রেস্তরাঁ এবং ছোট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির খরচও স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি আশ্বস্ত করেছে যে দেশে জ্বালানি ঘাটতি নেই। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং নাগরিকদের জন্য সুলভ ও টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনও জানিয়েছে, দেশজুড়ে পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো জ্বালানি ঘাটতির গুজবে কান না দিতে মানুষকে অনুরোধ করেছে। সরকারি সূত্রের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। প্রয়োজনে বিকল্প অঞ্চল থেকে আমদানি বাড়ানোরও প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এসব আশ্বাসের মাঝেও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নতুন চাপ তৈরি করেছে।

রান্নার গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, গ্যাস বুকিং সম্পর্কিত নতুন নিয়মও মানুষকে অসুবিধায় ফেলছে। “বড় সিলিন্ডার আর ছোট সিলিন্ডার দুটির দামই বাড়ানো হয়েছে। আগে বলছিল ২১ দিন আগে বুকিং দিতে হবে। এখন গ্যাস লাগলে রান্না করবেন কী করে?”—মুখ্যমন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট হয়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর প্রভাব। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাকও দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনে মিছিল হবে, যেখানে মানুষ তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করবেন। নতুন নিয়ম ও দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষকে দৈনন্দিন কাজের জন্য যন্ত্রণার মুখে পড়তে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Paikpara Blast: পাইকপাড়ায় ভোরবেলা বিস্ফো*রণ! বন্ধ ক্লাবের ভেতর কি হচ্ছিল? উদ্ধার তাজা বোমা নিয়ে চাঞ্চল্য এলাকা জুড়ে!

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ফের অস্থির হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠা-নামা অব্যাহত রয়েছে। ৭ মার্চ থেকে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ৯৩৯ টাকা হয়েছে। আগে ৮৭৯ টাকায় পাওয়া যেত। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও একই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে মধ্যবিত্ত পরিবার, হোটেল, রেস্তরাঁ ও ছোট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে খরচের নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা থাকায় দাম আরও ওঠা-নামার সম্ভাবনা আছে। তাই সাধারণ মানুষকে এখন থেকেই তাদের দৈনন্দিন বাজেট সামঞ্জস্য করতে হবে। রান্নার খরচের পাশাপাশি ব্যবসায়িক খরচও বাড়ায় এই পরিবর্তন মধ্যবিত্তের কপালে নতুন চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles