আদর্শ, সংগ্রাম এবং নীতির রাজনীতি—এই তিন শব্দের উপর ভর করেই দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে এসেছে বাম শিবির। বিশেষ করে ছাত্র রাজনীতির মঞ্চে নৈতিকতা ও সংগঠনের শৃঙ্খলার কথা বারবার তুলে ধরা হয়। কিন্তু সেই বাম ছাত্র রাজনীতির অন্দরেই যখন গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি তৈরি হয় সংগঠনের ভেতরে। কলকাতার বাম ছাত্র রাজনীতিতে সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই চাপ বাড়ছে বাম শিবিরের অন্দরে।
সূত্রের খবর, বাম ছাত্র সংগঠনের কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর এক মহিলা সদস্য লিখিতভাবে আর এক ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে যৌন ও মানসিক হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, অভিযুক্ত ওই ছাত্রনেতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে জীবন কাটানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও তৈরি হয়। কিন্তু কিছুদিন পরেই পরিস্থিতি বদলে যায় এবং সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে হতে শুরু করে।
অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন অভিযুক্ত ছাত্রনেতা একই সময়ে আরও কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পরেই তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই সম্পর্ক থেকে সরে গিয়ে ওই ছাত্রনেতা তাঁকে ‘ইন্টেলেকচুয়ালি নিম্নমানের’ বলে অপমান করেন। এই ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি। বিষয়টি নিয়ে জেলা নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও নাকি এখনও পর্যন্ত কার্যত কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংগঠনের একাংশের দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রনেতা শুধু জেলা পর্যায়েরই নন, রাজ্য কমিটির সঙ্গেও যুক্ত এবং জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ করতে নেতৃত্বের একাংশ দ্বিধায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকেই নাকি বোঝানো হয়েছে যে অভিযোগ বাড়িয়ে লাভ নেই। সংগঠনের ভেতরে অনেকেই আবার মনে করছেন, ভবিষ্যতের নেতৃত্বের দৌড়ে থাকার কারণেই ওই ছাত্রনেতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ককে গুরুত্ব না দিয়ে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুনঃ ‘খাওয়ার জলটুকুও মেলেনি’, পার্শ্বচরিত্রের অভিনেত্রী কিন্তু ‘সুপারস্টার’ আচরণ! চার দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ের ঝলক, তবু সাংবাদিকদের ডেকে হয়রানি! বিয়েবাড়িতে মিডিয়ার দুর্ব্যবহারের অভিযোগে উত্তেজনা তুঙ্গে!
এরই মধ্যে ১১ থেকে ১৩ মার্চ কলকাতা জেলার ছাত্র সংগঠনের জেলা সম্মেলন হওয়ার কথা। ঠিক সেই সময়ের আগেই এই অভিযোগ সামনে আসায় বাম শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। অভিযোগকারিণীর দাবি, এখনও পর্যন্ত তাঁর অভিযোগের কোনও স্পষ্ট উত্তর তিনি পাননি। বরং উল্টে তাঁকেই বলা হচ্ছে, এই অভিযোগ নাকি সম্মেলনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে সংগঠনের একাংশ মনে করছে, বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিতর্ক তৈরি হতে পারে। এখন দেখার, সম্মেলনের আগে বা পরে বাম ছাত্র সংগঠন এই অভিযোগ নিয়ে কী অবস্থান নেয় এবং আদৌ কোনও তদন্ত শুরু হয় কি না।





