৩৩ বছর পার, আজও ধোঁয়াশা কাটেনি! বলিউডের ‘স্বপ্নসুন্দরী’, দিব্যা ভারতীর মৃ’ত্যুর রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? জানলে চমকে যাবেন!

নব্বইয়ের দশকে বলিউডে ‘স্বপ্নসুন্দরী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন দিব্যা ভারতী। অল্প সময়েই তিনি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক তখনই হঠাৎ তাঁর জীবনে আসে ভয়ংকর এক অধ্যায়। ১৯৯৩ সালের এপ্রিল মাসের এক রাতে ঘটে যায় সেই ঘটনা, যা আজও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যায়নি। তাঁর মৃত্যু দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল, তা নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। এই রহস্য ঘিরে বহু বছর ধরেই আলোচনা চলছে। সময় পেরোলেও সত্যিটা যেন অধরাই থেকে গেছে।

সাংবাদিক ট্রয় রিবেইরো তাঁর লেখায় সেই রাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, মৃত্যুর আগে কয়েকদিন ধরে দিব্যা মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়েছিলেন। ঘটনার দিন তাঁর ফ্ল্যাটে কয়েকজন অতিথি এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পরিচিত ফ্যাশন ডিজাইনার নীতা লুল্লাও। সবাই যখন ঘরের মধ্যে গল্পে ব্যস্ত ছিলেন, তখন দিব্যা একা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর হাতে ছিল পানীয়ের গ্লাস। হঠাৎ করেই একটি জোরে শব্দ শোনা যায়, যা শুনে সবাই ছুটে যান।

তারপর দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন দিব্যা। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে আর বাঁচাতে পারেননি। ট্রয় তাঁর বইয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার ঠিক আগে দিব্যার পরিচারিকা তাঁকে শেষবার দেখেছিলেন। কিন্তু পুলিশ সেই পরিচারিকাকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি বলেই তাঁর অভিযোগ। এই বিষয়টি নিয়ে এখনও অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। এই অবহেলাই কি ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

ঘটনার পর দিব্যার স্বামী, প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা ভেঙে পড়েছিলেন। শোকের চাপে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে রাখা হয়। অন্যদিকে, হাসপাতালে পৌঁছে আরও একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। দিব্যার বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে কেউ হত্যা করেছে। এই মন্তব্য ঘিরে তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরিবারের মধ্যেই শুরু হয় সন্দেহ আর অভিযোগের পালা।

আরও পড়ুনঃ ‘চাপ বাড়ছে ক্রমেই, চুপ করে থাকা যাচ্ছে না আর!’ সহ্যের সীমা পেরিয়েছে, উগরে দিলেন ক্ষোভ! সুধা চন্দ্রনের জীবনে কী এমন ঘটছে? মুখ খুলতেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

ভোরের দিকে দিব্যার মা হাসপাতালে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দিব্যার বাবা এবং ভাই তখন তাঁর মায়ের দিকেই প্রশ্ন তুলতে থাকেন। কেন সেই মুহূর্তে এমন অভিযোগ উঠেছিল, তার স্পষ্ট কারণ আজও জানা যায়নি। এত বছর পরও এই ঘটনার কোনো চূড়ান্ত উত্তর মেলেনি। আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা না কি পরিকল্পিত খুন, এই তিন সম্ভাবনার মাঝেই ঘুরপাক খাচ্ছে দিব্যার মৃত্যুর ঘটনা। বলিউডে আজও এই রহস্য নিয়ে নানা আলোচনা শোনা যায়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর