মাসখানেক আগে ভজন চলাকালীন কিছু অস্বাভাবিক আচরণের জন্য খবরের শিরোনামে এসেছিলেন অভিনেত্রী সুধা চন্দ্রন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও আলোচনায় তিনি। এবার বিষয় মুম্বইয়ের রাস্তা এবং ভয়াবহ যানজট। বিশেষ করে মঢ আইল্যান্ডের রাস্তার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন। অভিনেত্রীর বক্তব্য, প্রতিদিনের যাতায়াত এখন এতটাই কষ্টকর হয়ে উঠেছে যে তা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পেশাগত ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে তিনি আর চুপ করে থাকতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়েই নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সবার সামনে।
সুধা চন্দ্রন জানিয়েছেন, প্রতিদিন কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তিনি বেশ উৎসাহ নিয়েই বের হন। কিন্তু রাস্তায় নামতেই সেই উৎসাহ দ্রুত মুছে যায়। দীর্ঘ যানজট এবং খারাপ রাস্তার কারণে শুটিং সেটে পৌঁছতে পৌঁছতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এর ফলে কাজের ওপরও প্রভাব পড়ে বলে জানান তিনি। শুধু মানসিক চাপ নয়, শারীরিক সমস্যাও বাড়ছে। রক্তচাপ ও থাইরয়েডের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি তিনি মঢ আইল্যান্ডের ভয়াবহ যানজটের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন। সেই ভিডিওতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। অভিনেত্রীর দাবি, শুধু তাঁরই নয়, প্রতিদিন বহু মানুষ এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। রাস্তার কাজ চললেও সঠিকভাবে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাঁর। এর ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন, নাহলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।
সুধা চন্দ্রন আরও বলেন, আগে তিনি সব কাজ সময়মতো করতে পারতেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছনোর জন্য যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। কিন্তু এখন রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে সময় মেনে চলা কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, নতুন কোনও কাজের প্রস্তাব এলে এখন আর শুধু চরিত্র নিয়ে ভাবেন না, বরং প্রথমেই জানতে চান শুটিং কোথায় হবে। যাতায়াতের অসুবিধা থাকলে তিনি অনেক কাজই ফিরিয়ে দেন। এতে তাঁর ক্যারিয়ারেও প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন অভিনেত্রী।
আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh : “তোর বাপের গুলি?… রাস্তায় ধরে পটকাবো”, বিজেপি কর্মীদের থানায় তুলে নিয়ে হুম*কি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে আইসি-কে নিশানা দিলীপ ঘোষের!
অভিনেত্রীর মতে, শহরের উন্নয়নের জন্য রাস্তার কাজ হওয়া স্বাভাবিক। তবে সেই কাজের সঠিক পরিকল্পনা থাকা জরুরি। কোনও রাস্তা বন্ধ থাকলে বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা উচিত বলেও মত তাঁর। পাশাপাশি ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে আরও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান করা সম্ভব। না হলে প্রতিদিনের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে সাধারণ মানুষের জন্য।





