পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ (West Bengal Assembly Election 2026) ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে, চলছে জোরদার প্রচার । গ্রামে-শহরে ঘুরে ঘুরে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চলছে, প্রতিশ্রুতির ঝাঁপি খুলে বসেছেন নেতারা। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে পরিকাঠামো, সব বিষয়েই বড় বড় আশ্বাস শোনা যাচ্ছে প্রচারের মঞ্চে।
তবে এই প্রচারের মাঝেই সাধারণ মানুষের মনে এক পুরনো ক্ষোভ আবার সামনে এসেছে। ভোটের সময় নেতাদের দেখা গেলেও, কাজের সময় তাঁদের খোঁজ মেলে না, এমন অভিযোগ নতুন নয়। বহু ভোটার সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন, “প্রতিশ্রুতি অনেক, কিন্তু কাজ কোথায়?” এই ক্ষোভ থেকেই তৈরি হচ্ছে নতুন বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট সব জায়গাতেই উঠছে জবাবদিহির দাবি।
এই আবহেই আসানসোলের বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারে নেমে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়কে। তিনি এই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়কও। প্রচারের সময় সাধারণ মানুষ একের পর এক অভিযোগ নিয়ে তাঁর সামনে হাজির হন। রাস্তা, বাড়ি, সরকারি পরিষেবা—বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তাঁকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলেন ভোটাররা।
এই চাপের মুখে পড়েই নিজের কাজ নিয়ে খোলাখুলি স্বীকারোক্তি দেন বিধান উপাধ্যায়। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে অনেক ক্ষেত্রেই কাজ হয়নি। এলাকার মানুষের বাড়ির প্রয়োজন রয়েছে, পাশাপাশি সরকারি পরিষেবারও ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি নিজেই মানেন। এই বক্তব্য তিনি সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সামনেই স্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুনঃ West Bengal assembly election 2026 : ভোটের মুখে ৭৩ রিটার্নিং অফিসার বদলি, ভবানীপুরেও বড় সিদ্ধান্ত, তাহলে কি ফের চাপের মুখে শাসকদল? কমিশনের পদক্ষেপ ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন তুলছে রাজ্য সরকার!
একজন বিদায়ী বিধায়কের মুখে এমন স্বীকারোক্তি ঘিরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিরোধীরা এটিকে হাতিয়ার করে শাসক দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বক্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে—কেউ এটিকে সততা বলে মনে করছেন, আবার কেউ দেখছেন ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি হিসেবে। এখন প্রশ্ন একটাই—এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি কি ভোটে প্রভাব ফেলবে, নাকি উল্টে বাড়াবে জনরোষ?





