S. Jaishankar : পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক, ‘দালাল দেশ’ মন্তব্যে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের, ভারত কি ইচ্ছাকৃতভাবেই দূরে থাকছে, নাকি কূটনৈতিক কৌশলেই এই অবস্থান?

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে আবারও উত্তেজনার পারদ চড়ছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, তার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও। একদিকে যুদ্ধের ধোঁয়া, অন্যদিকে দেশগুলোর অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। এই পরিস্থিতিতে কে কোন ভূমিকায় থাকবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

এই উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি সামনে আসতেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নের ঝড় ওঠে। বিরোধীরা সরাসরি কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে ভারত কি এই বড় আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পিছিয়ে পড়ছে? নাকি কূটনৈতিকভাবে অন্য কোনো পথ বেছে নিচ্ছে?

বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকে এই বিতর্ক চরমে পৌঁছায়। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ভারত কোনওভাবেই ‘ব্রোকার’ বা দালাল দেশের ভূমিকা নেবে না। তাঁর কথায়, এই ধরনের মধ্যস্থতাকারী কূটনীতি ভারতের নীতি নয়। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বহুবার আন্তর্জাতিক যোগাযোগে পাকিস্তানকে ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু ভারত নিজের কূটনৈতিক অবস্থানকে সেই পথে নিয়ে যেতে চায় না।

তবে সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ারসহ একাধিক নেতা সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, পাকিস্তান যেখানে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে, সেখানে ভারত নীরব দর্শকের মতো থাকছে এটি দেশের কূটনৈতিক অবস্থানের জন্য ঠিক নয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকলেও বিতর্ক থামেনি।

আরও পড়ুনঃ West Bengal assembly election 2026: শুভেন্দু-নন্দীগ্রাম যোগে উত্তাপ চরমে! ভবানীপুরে রিটার্নিং অফিসার ঘিরে তৃণমূল বনাম কমিশন টানাপোড়েন, বারবার বদলিতে উঠছে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন!

এই সমস্ত বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাত। ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ইতিমধ্যেই চতুর্থ সপ্তাহে পৌঁছেছে। সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তির বার্তা দিয়েছেন এবং দ্রুত সংঘাতের অবসান চান। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই জটিল পরিস্থিতিতে ভারত কি নিজের স্বতন্ত্র কূটনৈতিক পথেই এগোবে, নাকি বিশ্ব রাজনীতির চাপ তাকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles